Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বিজেপির টিকিটে বাংলা থেকেই রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সুস্মিতা !

//উত্তমকুমার সাহা//
১০ জুনঃ সুস্মিতা দেব কোথায় যাবেন, এ আজ আর কোনও প্রশ্ন নয়। কারণ তৃণমূল ত্যাগের আগেই তিনি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। হিমন্তই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। “কাল অসমে যাচ্ছি, বাংলায় আর রাজনীতি করব না”, সাংবাদিকদের বললেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলা থেকেই তাঁকে ফের রাজ্যসভায় পাঠানো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। তাঁকে তাঁর আসনের উপনির্বাচনেই বিজেপি প্রার্থী করতে চলেছে। সে হিসেবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুস্মিতা রাজ্যসভাতেই থাকছেন। পরের বছরেই অসমে বিধানসভার নির্বাচন। চার বছরের পরীক্ষায় পাশ করলে সেবার তাঁকে বিধানসভায় নেওয়ার কথা ভাবা হতে পারে।
নীতিগত প্রশ্নে সুস্মিতা দেবের দলত্যাগ এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে নানা কথা উঠলেও রাজনৈতিক লাভালাভের প্রশ্নে তাঁর সামনে কোনও বিকল্পও ছিল না। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসনে হেরেছেন, দল গো-হারা হেরেছে, এগুলির চেয়ে বড় সংশয়ের জায়গা হলো, তৃণমূল কংগ্রেস দলটি থাকবে কিনা। সে ক্ষেত্রে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। ওই জায়গায় তাঁর সামনে তিনটি রাস্তা খোলা ছিল : বিজেপিতে যাওয়া, কংগ্রেসে ফেরা অথবা রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়া। তৃতীয়টি তাঁর পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়। বাকি দুটির মধ্যে কংগ্রেসে ফেরা অর্থহীন। কারণ অসমে অদূর ভবিষ্যতে কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে বিজেপিতে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় ছিল না তাঁর।
জনগণের ভাল পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে এই সময়ে তাঁর কিছু যায়-আসেও না। কারণ রাজ্যসভায় প্রার্থী হলে জনগণের কাছে ভোট চাইবার ব্যাপার নেই। আর এই কারণেই সুস্মিতা চাইবেন না নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে। কারণ ওই আসনে প্রদ্যোৎ বরদলৈ জিতেছিলেন কংগ্রেসের ভোটেই। জনবিন্যাসেও আসনটি বিজেপির অনুকূলে নয়। ফলে এখনই এই রকম একটা চ্যালেঞ্জের মুখে হিমন্তও তাঁকে ঠেলতে চাইবেন না। কারণ অমিত শাহ হিমন্তকেই বলে দিয়েছেন সন্তোষ-তনয়াকে দেখে রাখার জন্য। দ্বিতীয়ত, বাঙালি বলে সুস্মিতা কখনও হিমন্তের কাছে হুমকি হয়ে উঠবেন না। তাই মুখ্যমন্ত্রী শর্মার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে তাঁকে বিপাকে ফেলারও কোনও কারণ নেই।

