NE UpdatesAnalyticsBreaking News
অসমে এ পর্যন্ত ৪৫,৯৫০ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে : হিমন্ত

গুয়াহাটি, ৩১ জুলাই : রাজ্য সরকার গোলাঘাট জেলার উরিয়ামঘাটে বর্তমান উচ্ছেদ অভিযানের সর্বশেষ পর্যায়ে ৩,৩০৫.৭৮ একর দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার এ কথা ঘোষণা করেন।এর ফলে, এখন পর্যন্ত মোট ৪৫,৯৫০ একর জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।
এ দিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা উচ্ছেদ অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই উচ্ছেদের আগে আমরা ৪২,৬৪৪.৫৭ একর জমি দখলমুক্ত করেছি। উরিয়ামঘাটে চালানো অভিযান আমাদের প্রচেষ্টায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ করেছে।”
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও, নাগাল্যান্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন তাঁরা বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছেন। শর্মা বলেন, “এই অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
উচ্ছেদ হওয়া কিছু ব্যক্তির ‘মিয়াল্যান্ড’ গঠনের দাবির কড়া প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মিয়াল্যান্ড গঠনের ধারণায় আমার কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু সেটা বাংলাদেশে হওয়া উচিত — অসমে নয়। চাইলে আমরা তাদের সে ব্যাপারে সাহায্যও করতে পারি।” তিনি আরও বিদ্রুপ করে যোগ করেন, “বাংলাদেশে যথেষ্ট জমি আছে, আর যদি সেটাও না হয়, তাহলে হয়তো আফগানিস্তানে করা যেতে পারে।”
গুয়াহাটির বনভূমিতে বসবাসের বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ওই এলাকায় অ-খিলঞ্জিয়া জনগণের বসবাস কতদিন ধরে চলছে, তা নির্ধারণে একটি সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, “এই সমীক্ষা কেবলমাত্র অ-খিলঞ্জিয়া ব্যক্তিদের জন্য, এবং এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি শুধুমাত্র যাচাই করার জন্য যে, তারা ওই এলাকায় তিন প্রজন্ম ধরে বসবাস করছেন কি না।”
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভূমিপূত্র (আদিবাসী) জনগণের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না এবং তারা রাজ্য সরকারের তৃতীয় পর্যায়ের প্রধান ভূমি-অধিকার প্রকল্প ‘মিশন বসুন্ধরা’-র আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। শর্মা বলেন, “আমাদের আদিবাসী জনগণকে উচ্ছেদ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। এই সমীক্ষা শুধুমাত্র বনভূমির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে, রাজস্ব জমির ওপর নয়।”


