NE UpdatesAnalyticsBreaking News

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সংসদে আলোচনা চান গৌরব গগৈ

গুয়াহাটি, ৩ আগস্ট : আসাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার উপ-নেতা গৌরব গগৈ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আজ সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই আমরা সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা চাইছি।”

গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্প্রসারিত কার্যনির্বাহী সভার আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “নির্বাচন কমিশনারকে যেহেতু সরকারই নিয়োগ করে, তাই এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। অথচ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা করতে দিচ্ছে না। সরকার কিছু লুকোতে চাইছে। কী সেই গোপনীয়তা? এটা কি বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে তাদের কারচুপি?”

গগৈ আরও জানান, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যা চলছে, তা নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে জানতে হবে, তাঁদের ভোটাধিকার ও ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য কী অবস্থায় রয়েছে। আমরা চাই এই বিষয়ে সংসদে খোলাখুলি আলোচনা হোক। কিন্তু সরকার বলছে, এই বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।”

“সরকার যুক্তি দিচ্ছে, নির্বাচন কমিশন কোনও দফতরের অধীন নয়। এ একেবারে অযৌক্তিক যুক্তি। কারণ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তো প্রধানমন্ত্রী ও সরকারই নিয়োগ করে,” বলেন গগৈ। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, “অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভোটাররা ভোটদানে আসার পরে জানতে পারছেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার মতো ঘটনা।” কংগ্রেসের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে হলে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সংসদে স্বচ্ছ ও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

অপারেশন সিন্দুর ও পহেলগাও সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহতদের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নীরবতা নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, “পহেলগাওয়ে সন্ত্রাসবাদী মানুষ মারা গিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ইন্টেলিজেন্স সূত্র ব্যর্থ হওয়ার কারণেই। অথচ তাঁরা জনগণের কাছে ক্ষমাও চাননি। এটাই তো ওঁদের স্বভাব।”

এ দিন সকালে গুয়াহাটিতে শুরু হয় আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্প্রসারিত কার্যনির্বাহী বৈঠক। বৈঠকে রাজ্যের কংগ্রেস দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক ও জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (২০২৬-এর মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সম্ভাব্য) দলীয় রণনীতি নির্ধারণে এই বৈঠকে বিস্তৃতভাবে আলোচনা হচ্ছে। এক শীর্ষ কংগ্রেস কর্মকর্তা জানান, “এই বৈঠকে দুটি প্রস্তাব গৃহীত হবে। একটি রাজনৈতিক, অপরটি অর্থনৈতিক। এই দুই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker