India & World UpdatesHappeningsBreaking News
২৪টি ইউরোপীয় ভাষায় রাষ্ট্রনেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে চমক মোদির
বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে পৌঁছে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিস্মিত সকলে

ওয়েটুবরাক, ২৮ জানুয়ারি: ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, সে সময় ব্রিটেনের সংবাদপত্র তাঁকে “ভারতের প্রথম সামাজিক মাধ্যম প্রধানমন্ত্রী” বলে অভিহিত করেছিল। ১২ বছর পর গত মঙ্গলবার মোদি এই সামাজিক মাধ্যমেই কূটনেতিক মাস্টারস্ট্রোক খেললেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে তিনি ২৪টি বিভিন্ন ভাষায় ধন্যবাদ বার্তা প্রেরণ করেন। কূটনীতির বিশ্লেষকরা একে “ডিপ্লোমেটিক মাইলস্টোন” বলে মোদিকে বাহবা দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে একই বার্তা বিভিন্ন ভাষায় তুলে ধরে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭টি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।
ট্রাম্পের চোখরাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোদি শুধু ইউরোপীয়দের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধই হলেন না, আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ওইসব দেশের মানুষের হৃদয় ছোঁয়ারও চেষ্টা করলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদি ইউনিয়নের ২৭ রাষ্ট্রনেতাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রথমে ইংরেজিতে লিখেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক চিহ্নিত করল। এটি সম্ভব করে তুলেছে বছরের পর বছর ধরে ইউরোপের সকল নেতার গঠনমূলক মনোভাব ও দায়বদ্ধতা। সে জন্য আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল রাষ্ট্রনেতাদের ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।”
পরে সমাজ মাধ্যম ব্যবহার করেই ২৭ রাষ্ট্রে যে ২৪টি ভাষা প্রচলিত রয়েছে, তাতে তা অনুবাদ করে একই সঙ্গে পোস্ট করেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ান, বুলগেরিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান, চেক, ড্যানিশ, ডাচ, ইস্তোনিয়ান, ফিনিস, হাঙ্গেরিয়ান, আইরিশ, লাতভিয়ান, লিথুয়ানিয়ান, মালটিজ, পোলিশ, পর্তুগিজি, রোমানিয়া্ন, স্লোভাক, স্লোভেনিয়ান, স্প্যানিশ, সুইডিশ ইত্যাদি।
বিষয়টি সকল রাষ্ট্রনেতাকে বিস্মিত করে তোলে। তাঁরা জানতে পারেন, এ ভাবেও শুভেচ্ছা-ধন্যবাদ জানানো যায়। পরে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট একই কৌশলে হিন্দিতে মোদির পোস্টের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। ইউরোপীয় কমিশনের বরিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভনভারগেন বলেন, “২৭ রাষ্ট্রের প্রত্যেককে তাঁদের ভাষায় ধন্যবাদ জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে পৌঁছে দিলেন। এ আর আমলাতান্ত্রিক ব্যাপার হয়ে থাকেনি, ব্যক্তিগত হৃদ্যতার ছোঁয়া মিলল তাতে। সম্মানের আবরণে মোড়া বাণিজ্য—এটিই একবিংশ শতকের কূটনীতির সর্বোত্তম উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, “এ মোটেও আরোপিত নয়। এটা এসেছে নিজেদের সংস্কৃতি থেকে।”
আরেক কূটনীতি বিশেষজ্ঞ মারিয়োস কারাজিয়াস একে “চমৎকার জনকূটনীতি” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “মোদির মতো রাষ্ট্রনেতারাই সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে পারেন। পরম্পরাগত প্রক্রিয়া থেকে এ যে উত্তরণ, তা উৎসাহব্যঞ্জক।”



