Barak UpdatesHappeningsBreaking News

উল্টোপুরাণ শিলচরে, ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ রোগীর অভিভাবকের
Parents of baby admitted at SMCH alleges physical assault upon them by Jr doctors

ওয়েটুবরাক, ৬ জুন: কিছুদিন ধরে আসামে এক চর্চা, রোগীর মৃত্যুর দরুন উদালিতে ডাক্তারকে বেদম পিটিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা৷ শনিবার রাতে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে গেল প্রায় উল্টোপুরাণ৷ রোগীর পিতার অভিযোগ, ডাক্তাররা তাকে মারপিট করেছেন৷ হাঁটু মুড়ে বসে থাকতে বাধ্য করেছেন৷ শেষে কাগজে-কলমে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তার ৫৭ দিনের শিশুকন্যাকে মেডিক্যালের আইসিইউ থেকে বের করে দেন ডাক্তাররা৷ শিশুটির বাবা শরিফ আহমেদ লস্কর জানান, শেষে রাতে তারা কোথায় যাবেন, কী করবেন ভেবে ভেবে রওয়ানা হয়েছিলেন সিভিল হাসপাতালের উদ্দেশে৷ পথে তাঁর ৫৭ দিনের শিশু আরিফা লস্করের মৃত্যু হয়৷ তাঁরা ঘুংঘুর থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন, ডাক্তারদের বিচার চান৷

মেডিক্যালের উপাধ্যক্ষ ভাস্কর গুপ্তের বক্তব্য,  শিশুটির হৃদযন্ত্রের সমস্যা৷ একটা চেম্বার নেই৷ বৃহস্পতিবার ডাক্তাররা তাকে দেখেই ভর্তি করতে বলেন৷ কিন্তু অভিভাবকরা বাড়ি নিয়ে যান৷ রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফের নিয়ে গেলে ভর্তি করা হয়৷ আইসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্টে ছিল সে৷ কিন্তু অভিভাবকরা সে রাত থেকেই সবাই মিলে যখন-তখন আইসিইউতে ঢুকছিলেন, বেরোচ্ছিলেন৷ শনিবার রাতে এ নিয়েই ডাক্তারের সঙ্গে তর্ক বাঁধান শরিফ আহমেদ৷ তাকে আইসিইউতে থাকতে দেওয়া হবে না বলায় তিনি ফোন করে তিন-চার যুবককে ডেকে নিয়ে আসেন আইসিইউর সামনে৷ তারা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ে৷ কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যহার করে৷ শেষে নিজেরাই সই দিয়ে রোগীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে৷ কোথায় ওই শিশু কীভাবে মারা গিয়েছে তা জানা নেই তাঁদের, বললেন ভাস্করবাবু৷

Alleged injury marks exhibited by patient party

ওদিকে, শরিফকে যে বেদম পেটানো হয়েছে, তার চিহ্ন তাঁর পিঠে বর্তমান৷ তার কথায়, আইসিইউর অক্সিজেন মেশিনটি নষ্ট৷ তাঁরা নিজেরাই ২০ মিনিট পরপর এর সুইচ দিতেন৷ তাঁকে বের করে দিলে সুইচটা কে দেবে, চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি৷ কিন্তু ডাক্তার কোনও কথা শুনতে নারাজ৷ তিনি তখন তাঁর বাড়িতে জানান৷ সোনাবাড়িঘাট প্রথম খণ্ড থেকে ভাইয়েরা ছুটে গেলে তর্ক বাঁধে৷ পরে আরও ডাক্তার সেখানে গিয়ে সবাইকে প্রচণ্ড পেটান৷ হাঁটু মুড়ে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়৷ শেষে অক্সিজেন খুলে শিশুটিকে বের করে দেওয়া হয় এবং তাতেই তার মৃত্যু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন শরিফ৷

Principal SMCH denies claim of doctors beating patient party

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থপ্রতীম শইকিয়ার নেতৃত্বে পুলিশদল তদন্তে নেমেছে৷ মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা৷ বরাক জুড়ে একাংশ চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে৷ বিশেষ করে, ৫৭ দিনের শিশুকে অক্সিজেন খুলে হাসপাতাল থেকে বের করে ঘটনাকে চূড়ান্ত অমানবিক বলে উল্লেখ করছেন সাধারণ মানুষ৷

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker