NE UpdatesIndia & World UpdatesHappeningsBreaking News
ভারতে উচ্ছেদ অভিযান, টার্গেট বাংলাভাষী মুসলমান, লিখেছে সময়ের আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৮ জুলাই: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে সম্প্রতি হাজারো মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করে ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবার বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমিতে বসবাস করছিল বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। তবে অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম হওয়ায় অনেকেই একে মুসলিমবিদ্বেষী দমননীতি হিসেবে দেখছেন।
মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো এই দমন অভিযানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো ‘নীল ত্রিপল’ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুসলিমদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিহিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা দাবি উপস্থাপন করছেন। তাঁর মতে, অভিবাসীদের কারণে আসামের জনসংখ্যা ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে।
সরকারি তথ্যমতে, ২০২১ সালে হিমন্ত শর্মা ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম। শুধু গত এক মাসেই ৩ হাজার ৪০০ পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মুসলিমদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এই দমন অভিযানে বহু পরিবার বেআইনিভাবে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশেরই আইনি লড়াই চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব আরও বেড়েছে। বিজেপি এই ইস্যুকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করছে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ২ হাজার ৩৬৯ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যদিও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রভীন দন্তি বলেন, ‘বাংলাভাষী মুসলিমরা আইনগত অবস্থান যাই হোক ভারতের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। যা জাতিগত জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ। যেখানে লক্ষ্য এখন ‘বাংলাভাষী বহিরাগত’ থেকে সরাসরি ‘বাংলাভাষী মুসলিমদের’ দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ভারতের বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মেরুকরণে এই উচ্ছেদ ও বিতাড়ন নীতি গ্রহণ করেছে। বিরোধী এম এল এ অখিল গগৈ বলেন, ‘পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিকভাবে লাভজনক এবং বিজেপির জন্য উপকারি।’ মূল বিরোধী দল কংগ্রেস ২০১৬ সালের নির্বাচনে হেরে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারিয়েছিল।
দলটি জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় ফিরলে গুঁড়িয়ে দেওয়া বাড়িগুলো পুনর্নির্মাণ করবে এবং যারা এসব ধ্বংস করেছে, তাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(সৌজন্যে: সময়ের আলো, বাংলাদেশ)



