India & World UpdatesHappeningsBreaking News

শিবু সোরেনের জীবনাবসান

ওয়েটুবরাক, ৫ আগস্ট: কিডনির সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ একমাসের বেশি গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বছর একাশির শিবু সোরেন। সোমবার হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। শিবু সোরেনের প্রয়াণের খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানান তাঁর পুত্র তথা ঝাড়খণ্ডের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।

ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা প্রধান শিবু ছিলেন স্বাধীনোত্তর আদিবাসী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, বিরসা মুন্ডার উত্তরসূরি। ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি জন্ম, অখণ্ড বিহারের রামগড় জেলার নেমরা গ্রামে, পিছিয়ে পড়া সাঁওতাল উপজাতি পরিবারে।

১৮ বছর বয়সেই সাঁওতাল নবযুবক সঙ্ঘ গঠন করেন তিনি। পরে সেই সংগঠনই ঝাড়খণ্ড মুক্তির মোর্চার রূপ নেয়। আদিবাসীদের অধিকারের লড়াই ও পৃথক রাজ্যের দাবিতে তির-ধনুক হাতে নেমে পড়েন খনিজ সম্পদে ভরপুর ঝাড়খণ্ডে। সাঁওতাল, কুর্মি-মাহাতদের জমি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগঠিত করেন। সংঘর্ষের পথেই ঝাড়খণ্ডের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভালোবাসার ‘গুরুজি’ বা ‘দিশম গুরু’ হয়ে ওঠেন শিবু সোরেন।

১৯৭৭-এ ভোটে দাঁড়িয়ে হারলেও ১৯৮০ সালে প্রথমবার দুমকা থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন।

 

পরবর্তী সময়েও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং শিবু সোরেনের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। ১৯৮৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালেও লোকসভায় নির্বাচিত হন জেএমএম প্রধান। ২০০২ সালে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন তিনি। একই বছরে উপনির্বাচনে দুমকা লোকসভা আসনে জয়লাভ করে রাজ্যসভার আসন ছেড়ে দেন শিবু। ২০০৪ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। মূলত শিবুর আন্দোলনের জেরেই ২০০০ সালের ১৫ নভেম্বর ২৮তম রাজ্য হিসাবে পৃথক ঝাড়খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে প্রথমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। যদিও ১০ দিনের জন্য। পরে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শিবু সোরেন। এর আগেই কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের কয়লামন্ত্রী হন তিনি। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিন দফায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker