Barak UpdatesHappeningsBreaking News
জনগণনায় নিজের মাতৃভাষা নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করাতে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বান
একা লড়তে হবে না, পাশে থাকার অঙ্গীকার
ওয়েটুবরাক, ১৭ আগস্ট : হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি, কাছাড় জেলা শাখার এক জরুরি সভা আজ বিকাল ৪ ঘটিকায় শিলচরের নজিরপট্টিস্থিত রূপম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী ধ্রুব কুমার সাহা। সভায় আসন্ন জনগণনা ২০২৭-কে কেন্দ্র করে সমগ্র অসমের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। বিশেষ করে জনগণনায় মাতৃভাষা এবং অন্যান্য জানা ভাষা সংক্রান্ত তথ্য সঠিক, নির্ভুল ও যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি সভায় বিশেষ গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়।
সভায় বলা হয়, জনগণনা শুধুমাত্র মানুষের সংখ্যা গণনার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এর মাধ্যমে দেশের মানুষের সামাজিক, ভাষাগত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি সরকারি তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়। জনগণনার সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পরিকল্পনা, শিক্ষা, ভাষা-সংক্রান্ত নীতি, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে জনগণনার সময় একজন নাগরিক যে তথ্য প্রদান করবেন, তা তাঁর প্রকৃত তথ্য হওয়া এবং সেই তথ্যই যথাযথভাবে সরকারি নথিতে প্রতিফলিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি, কাছাড় জেলা শাখার পক্ষ থেকে সমগ্র অসমের জনগণের প্রতি জোরালো ও দায়িত্বশীল আবেদন জানানো হয় যে, জনগণনা ২০২৭-এর সময় প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের প্রকৃত মাতৃভাষা নির্ভয়ে, স্পষ্টভাবে এবং সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করান। কোনও ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা অন্য কোনও প্রভাবের কারণে নিজের প্রকৃত মাতৃভাষা গোপন করা, পরিবর্তন করা বা অন্য কোনও ভাষা উল্লেখ করা উচিত নয়। একইভাবে, প্রত্যেক নাগরিক যে সকল অন্যান্য ভাষা বাস্তবে জানেন, সেগুলিও জনগণনার নির্ধারিত প্রশ্ন ও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে উল্লেখ করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়।
সভায় বিশেষভাবে বলা হয়, মাতৃভাষা প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব পরিচয়, পারিবারিক উত্তরাধিকার, সামাজিক অস্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই মাতৃভাষার প্রশ্নে কোনও নাগরিকের উপর কোনও ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক বা অন্য কোনও চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। কোনও নেতা, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন বা অন্য কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির বক্তব্য বা নির্দেশের ভিত্তিতে নিজের মাতৃভাষা নির্ধারণ না করে প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের প্রকৃত মাতৃভাষাই ঘোষণা করেন। কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, জনগণনার মতো একটি আইনসম্মত সরকারি প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও প্রকৃত তথ্যের পরিবর্তে অন্য কারও পছন্দ, নির্দেশ বা রাজনৈতিক অবস্থান স্থান পেতে পারে না।
সভায় সমগ্র অসমের জনগণের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়ে বলা হয় যে, কোনও নেতা বা মন্ত্রীর নির্দেশে নিজের মাতৃভাষা পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে নথিভুক্ত করা উচিত নয়। জনগণনা কোনও রাজনৈতিক প্রচার বা রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্র নয়। প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মাতৃভাষা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব বক্তব্যই যথাযথভাবে নথিভুক্ত হওয়া উচিত। কোনও নাগরিকের উপর তাঁর ভাষাগত পরিচয় সম্পর্কে কোনও মত চাপিয়ে দেওয়া বা তাঁকে তাঁর প্রকৃত বক্তব্যের বিপরীতে কোনও তথ্য দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গণনাকারীরা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার কাজে যাবেন, তখন প্রত্যেক পরিবার ও প্রত্যেক নাগরিককে অত্যন্ত সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। গণনাকারীকে যে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে, বিশেষ করে মাতৃভাষা ও অন্যান্য জানা ভাষার ক্ষেত্রে, সেই তথ্য গণনাকারী সঠিকভাবে নথিভুক্ত করছেন কি না, তা নাগরিকদের নিজেদের সামনে থেকেই লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজের বক্তব্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণনাকারী যে তথ্য লিখছেন বা ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করছেন, তা নাগরিকের প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে প্রত্যেককে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।
কোনও তথ্য ভুলভাবে লেখা হলে, নাগরিকের বক্তব্যের পরিবর্তে অন্য কোনও তথ্য নথিভুক্ত করা হলে অথবা প্রদত্ত তথ্য সম্পর্কে কোনও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে, সংশ্লিষ্ট নাগরিককে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গণনাকারীর নজরে এনে সঠিক তথ্য নথিভুক্ত করার দাবি জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সভায় বলা হয়, জনগণনা শেষ হওয়ার পর ভুল তথ্য সংশোধনের সুযোগ সীমিত বা জটিল হতে পারে; তাই তথ্য সংগ্রহ ও নথিভুক্তির সময়ই প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কমিটির পক্ষ থেকে জনগণকে আরও সতর্ক করে বলা হয় যে, কোনও নাগরিক নিজের প্রকৃত তথ্য প্রদান করার পরও যদি সেই তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন, বিকৃত বা ভুলভাবে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। জনগণনা একটি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সরকারি প্রক্রিয়া এবং সেন্সাস অ্যাক্ট ১৯৪৮-এর প্রযোজ্য বিধান লঙ্ঘন হলে তা আইনগত অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। অতএব জনগণনা প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বেআইনি হস্তক্ষেপ, ইচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃতি বা আইনবিরুদ্ধ কার্যকলাপের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট নাগরিককে ভয় না পেয়ে যথাযথ আইনগত প্রতিকার গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, আইন লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষকে একা লড়তে হবে না। জনগণের আইনগত অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত থাকবে। জনগণনার সময় কোনও নাগরিক যদি তাঁর প্রকৃত তথ্য নথিভুক্ত করতে গিয়ে অন্যায় চাপ, বেআইনি বাধা, ইচ্ছাকৃত ভুল নথিভুক্তি, তথ্য বিকৃতি বা অন্য কোনও আইনবিরুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তাহলে তাঁকে নীরব না থেকে বিষয়টি কমিটির নজরে আনার জন্য আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনসম্মত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন এবং যথাযথ আইনি প্রতিকার গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় একই সঙ্গে অসমের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাভিত্তিক ও নাগরিক সংগঠনগুলির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের আইনসম্মত অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অরাজনৈতিক সংগঠনগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। তাই কোনও রাজনৈতিক পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং নির্ভয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণনা ২০২৭ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, নিজের প্রকৃত তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা এবং কোনও অনিয়ম দেখা দিলে আইনসম্মতভাবে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার জন্য অসমের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় আরও দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সমগ্র অসমের জনগণের স্বার্থ, জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ার সুরক্ষার প্রশ্নে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি কোনও ধরনের অন্যায়, অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নীরবে মেনে নেবে না। যেখানে আইন লঙ্ঘন হবে, যেখানে জনগণের প্রদত্ত প্রকৃত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করার চেষ্টা হবে, অথবা যেখানে কোনও নাগরিককে তাঁর নিজের প্রকৃত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে প্রভাবিত বা বাধাগ্রস্ত করা হবে, সেখানে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও আইনানুগ পদ্ধতিতে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবে। জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কমিটি প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পিছপা হবে না।
সভায় স্পষ্ট করা হয় যে, এই উদ্যোগ কোনও ব্যক্তি, কোনও রাজনৈতিক দল বা কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণনা ২০২৭-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের প্রকৃত তথ্য যেন সঠিকভাবে সরকারি নথিতে প্রতিফলিত হয় তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে মাতৃভাষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়গত তথ্য কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত নির্দেশের ভিত্তিতে নয়, সংশ্লিষ্ট নাগরিকের নিজস্ব বক্তব্য ও বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই নথিভুক্ত হওয়া উচিত।
সভায় আরও বলা হয়, জনগণনা ২০২৭-কে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও ধরনের ভয়, বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না করে সচেতনতা, আইনজ্ঞান এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবারকে জনগণনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার, গণনাকারীকে সঠিক তথ্য দেওয়ার এবং প্রদত্ত তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য সভার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, উপদেষ্টা তথা বরিষ্ঠ আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেব, উপদেষ্টা তৈমুর রাজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি অধ্যাপক বিভাস দেব, রসরাজ দাস, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী দেবোমিতা চক্রবর্তী, আইনজীবী তুহিনা শর্মা এবং আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি, কাছাড় জেলা শাখার পক্ষ থেকে সমগ্র অসমের জনগণের প্রতি দৃঢ় ও স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়—ভয় নয়, সচেতনতা; চাপ নয়, নিজের সত্য তথ্য; নির্দেশ নয়, নিজের প্রকৃত পরিচয়। জনগণনা ২০২৭-এ প্রত্যেক নাগরিক নিজের প্রকৃত মাতৃভাষা নির্ভয়ে ও নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করুন, অন্যান্য জানা ভাষার তথ্যও সঠিকভাবে প্রদান করুন এবং গণনাকারী প্রদত্ত তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করেছেন কি না, তা নিজের সামনে নিশ্চিত করুন। কোথাও কোনও অনিয়ম, বেআইনি চাপ বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে নীরব না থেকে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটির নজরে আনার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি, কাছাড় জেলা শাখা পুনরায় ঘোষণা করছে—সমগ্র অসমের জনগণের স্বার্থে, জনগণের ন্যায্য অধিকারের স্বার্থে এবং আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে যেখানে আইন লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই কমিটি আইনানুগভাবে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করবে এবং জনগণের পাশে থাকবে। খবরটি হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটির প্রচার সম্পাদক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন ।


