NE UpdatesAnalyticsBreaking News
গুয়াহাটির হোটেলে গুলিকাণ্ড : অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে

গুয়াহাটি, ২৮ অক্টোবর : গুয়াহাটির হোটেল বিলাস ইন-এ গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল কামরূপ মহানগর জেলার আদালত। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) আদালতে হাজির করা হলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের এক পদস্থ আধিকারিক এই খবর জানিয়েছেন।
গত ২৬ অক্টোবর উলুবাড়ি এলাকার লাচিত নগরে থাকা হোটেলটিতে এই গুলিকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হোটেলটির লিজ এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে পুলিশ। সম্পত্তির পরিচালনা ও সেখানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই বৈঠক চলাকালীন ছ’জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ঘনকান্ত গগৈ। ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ অপর ব্যক্তি সত্যেন্দ্র পাঠক বর্তমানে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সি ঘনকান্ত গগৈ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হোটেল মালিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের লিজ চুক্তি করেছিলেন। মাসিক ভাড়া ছিল প্রায় ১.৮ লক্ষ টাকা। পরে হোটেলটির সংস্কারকাজ করার পর তার ব্যবহার এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ২৬ অক্টোবর বিরোধ মেটাতে আয়োজিত বৈঠকে সেই মতপার্থক্য আরও তীব্র আকার নেয়। অভিযোগ, প্রথমে বচসা শুরু হয়, পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এরপরই অভিযুক্ত গুলি চালান বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম এবং গুলিচালনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
মূলত ডিব্রুগড়ের বাসিন্দা ঘনকান্ত গগৈ বর্তমানে গুয়াহাটির সাওকুচি এলাকায় থাকতেন। ঘটনার পর তাঁকে বশিষ্ঠ থানা এলাকার কাছ থেকে চিহ্নিত করে আটক করে পুলিশ। গুলিকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা পিস্তলটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার অঙ্কুর জৈন। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহৃত কার্তুজের খোল এবং .৩২ ক্যালিবারের তাজা কার্তুজ।
পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গুলিচালনার কারণ এবং তার আগে কী কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে।



