NE UpdatesHappeningsBreaking News
নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ : ৭৬ শতাংশ ভোটদান
গুয়াহাটি, ৬ অক্টোবর : শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হল নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সন্ধ্যা ৫টায় শেষ হয়। ১৯.৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৭৬ শতাংশ ভোটার এই উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিক। তবে গেট বন্ধ হওয়ার আগে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা ভোটারদের ভোটদানের অনুমতি দেওয়ায় চূড়ান্ত ভোটদানের হার আরও বাড়তে পারে বলেও জানান আধিকারিক।
কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ পদত্যাগ করে চলতি বছরের শুরুতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে দিসপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধানসভায় নির্বাচিত হন। সেই কারণেই নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নির্বাচনী আধিকারিক জানান, সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ছিল। লোকসভা কেন্দ্রটির অন্তর্গত আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের কোনও ভোটকেন্দ্র থেকেই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে ইভিএমে ছোটখাটো ত্রুটির খবর এলেও সঙ্গে সঙ্গে মেশিন বদলে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়।
সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত সামাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বাধিক ৮০.২২ শতাংশ এবং রহায় সর্বনিম্ন ৭০.২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। বাকি ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মরিগাঁওয়ে ৭২.৮৪ শতাংশ, নগাঁও-বটদ্রবায় ৭২.০১ শতাংশ, রূপহীহাটে ৭৭.৬৭ শতাংশ, ধিংয়ে ৭৭.৯৩ শতাংশ, জাগীরোডে ৭৬.৬১ শতাংশ এবং লাহরিঘাটে ৭৮.৮৮ শতাংশ ভোটদান হয়েছে।
জাগীরোড বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মায়ং উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস শর্মা ভোট দেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শিবামণি বরা নগাঁও-বটদ্রবা বিধানসভা কেন্দ্রের মাজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পদত্যাগের আগে নগাঁও জেলার আয়ুক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেবাশিস শর্মা নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ভোটাররা উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে, শিবামণি বরা বলেন, “বিজেপি এবং এআইইউডিএফ একই সত্তা—এ কথা সকলেই জানেন। তবে কংগ্রেস আসনটি ধরে রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
এই নির্বাচনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এনডিএ-র দেবাশিস শর্মা, কংগ্রেসের শিবামণি বরা এবং এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপনির্বাচনের ফলাফল সংসদের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এর গুরুত্ব রয়েছে। মুসলিম-অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে শাসক বিজেপি নিজেদের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস সংখ্যালঘু সমর্থনের ভিত্তি অক্ষুণ্ণ রেখে আসনটি ধরে রাখার জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়েছে।
এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে দলের শক্তি ১৬ জন বিধায়ক থেকে কমে দুজন বিধায়কে দাঁড়ানোর পর মাঠে থাকা তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দল এআইইউডিএফও নিজেদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে লড়াই করছে।
জেলা প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ৬২৪টি ভোটকেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান অন্য এক আধিকারিক। পাঁচটি সহায়ক বুথ-সহ মোট ২,৩১২টি ভোটকেন্দ্রে ৯.৪৩ লক্ষ মহিলা এবং ৫০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার-সহ মোট ১৯.০৫ লক্ষ ভোটার ভোটদানের যোগ্য ছিলেন। আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে।

