Barak UpdatesCultureBreaking News
হাইলাকান্দির কাহামপাড়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ধান ১৫০০ বছরের পুরনো ভাস্কর্য

ওয়ে টু বরাক, ৩ অক্টোবর : কয়েক বছর আগে হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অসম-মিজোরাম সীমান্তের দুর্গম এলাকা কাহামপাড়ায় প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্য উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ওই ভাস্কর্যগুলির আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন এবং সংরক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, প্রশাসন ওই স্থান পরিদর্শন করেছে এবং বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সংবাদমাধ্যমের কাছে এ কথা জানিয়েছেন হাইলাকান্দির সংমণ্ডল বন আধিকারিক অখিল দত্ত।
প্রাথমিক গবেষণা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এই শৈল-ভাস্কর্যগুলি প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাথর খোদাই করে তৈরি এই মূর্তিগুলির মধ্যে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, এর মধ্যে একটি মূর্তির সঙ্গে দেবী পার্বতীর সাদৃশ্য রয়েছে এবং অন্য একটি মূর্তিতে বুদ্ধের ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দলের মতে, এই ভাস্কর্যগুলির শিল্পশৈলীর সঙ্গে ত্রিপুরার বিখ্যাত উনকোটি ও পিলাকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি গুপ্ত-পাল যুগের শিল্পকলার বিশেষ সাদৃশ্য রয়েছে।
অসম সরকার এবং হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন এই স্থানটি সুরক্ষিত করতে এবং আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে অসম সরকার এই স্থানটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে।

উল্লেখ্য, এই প্রাচীন শৈল-ভাস্কর্যগুলি প্রথমবারের মতো ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। শিলচরের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. গণেশ নন্দী এবং গবেষক ড. বিনয় পালের একটি দল ২০২৩ সালের শেষের দিকে এই দুর্গম অরণ্য এলাকায় গিয়ে ভাস্কর্যগুলির অবস্থান প্রথমবার নথিবদ্ধ করেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নতুন উদ্যোগের কারণে গোটা বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।
এই প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্য প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি-সহ একটি পোস্ট করেন। তিনি বলেন, “একটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, হাইলাকান্দির কাহামপাড়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ধান পাওয়া প্রাচীন ভাস্কর্যগুলি অসমের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক পরম্পরার এক অমূল্য অধ্যায় আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো বলে অনুমান করা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির মধ্যে হিন্দু ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভাস্কর্যে দেবী পার্বতীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাস্কর্যগুলির মধ্যে গুপ্ত-পাল শিল্পধারার সঙ্গেও সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘন অরণ্য ও দুর্গম পাহাড়ের মধ্যে যুগ যুগ ধরে প্রকৃতির বুকে সংরক্ষিত থাকা এই ভাস্কর্যগুলি প্রাচীন শিল্পের নিদর্শন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বাস, সাধনা, শিল্পবোধ ও আধ্যাত্মিক চেতনার সাক্ষী হিসেবেও উন্মোচিত হয়েছে। সময়ের অসংখ্য পৃষ্ঠা পেরিয়েও পাথরে খোদিত এই রূপ আজ আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যেন অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বয়ে আসা এক পবিত্র সংযোগ।”
পোস্টে তিনি আরও বলেন, “অসমের মাটিতে এখনও যে কত অমূল্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রকৃতির আড়ালে সংরক্ষিত রয়েছে, এই সন্ধান তারই এক উজ্জ্বল আভাস দিয়েছে। এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আরও গবেষণার মাধ্যমে অসমের অতীতের এমন বহু অজানা অধ্যায় আলোর মুখ দেখুক—এটাই আমাদের আন্তরিক কামনা। মা পার্বতীর আশীর্বাদে অসম সর্বদা শান্তি, শক্তি, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জ্বল হয়ে থাকুক।”


