India & World UpdatesHappeningsBreaking News
ইসরোর ‘নটি বয়’ অবশেষে সফল

ওয়েটুবরাক, ৪ সেপ্টেম্বর : শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে শুক্রবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি দিল ভারতের নতুন পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ‘ইওএস-০৫’। জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের পিঠে চেপে এই উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর ।
প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই ভারী উপগ্রহটিকে স্থাপন করা হচ্ছে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচুতে, ভূ-সমলয় বা জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে। এটিই ভারতের প্রথম ইমেজিং উপগ্রহ যা এই নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবস্থান করবে। সাধারণত লো-আর্থ অরবিট বা পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা উপগ্রহগুলি কয়েক দিনে মাত্র একবার কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে যায়। কিন্তু ইওএস-০৫ মহাকাশে স্থির এক অতন্দ্র প্রহরীর মতো দিনরাত ভারতের ওপর নজর রাখবে।
উপগ্রহটিতে রয়েছে সর্বাধুনিক মাল্টিস্পেকট্রাল ও হাইপারস্পেকট্রাল সেন্সর। এতে থাকা ৪২ মিটারের রেজোলিউশন ক্যামেরাটি ইসরোর ইতিহাসে ভূ-সমলয় কক্ষপথে পাঠানো সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরা। এর মাধ্যমে ভারতের যেকোনও নির্দিষ্ট প্রান্তের ছবি প্রতি ৫ মিনিটে এবং গোটা দেশের ছবি প্রতি ৩০ মিনিটে হাতে পাবেন বিজ্ঞানীরা।
এই উপগ্রহের মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও নজরদারি। ঘূর্ণিঝড়, হঠাৎ বন্যা, মেঘভাঙা বৃষ্টি কিংবা ভয়াবহ দাবানলের মতো দ্রুত রূপ বদলানো দুর্যোগের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে, ফলে উদ্ধারকাজে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে ফসলের স্বাস্থ্য, মাটির আর্দ্রতা ও বনভূমির পরিবর্তনের তথ্য দিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপরও নজর রাখবে এই উপগ্রহ।
দেশের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও এই উপগ্রহ এক বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। স্থল সীমান্ত থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরীয় জলসীমায় কোনও অনুপ্রবেশ বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া থাকলে তা রিয়েল-টাইমে ধরা পড়বে এই উপগ্রহের ক্যামেরায়, যা দেশের সুরক্ষাকে আরও কয়েক ধাপ মজবুত করবে।
ইসরোর প্রধান ড. ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, জিএসএলভি রকেটের এটি ছিল ১৯তম সফল উড়ান এবং এটিই এই রকেটে পাঠানো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী কোনো উপগ্রহ। চলতি অর্থবর্ষেই আরও পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে ন্যাভিগেশন উপগ্রহ এনভিএস-০৩ এবং বহুপ্রতীক্ষিত গগনযান-জি১ মিশন।

