Barak UpdatesHappeningsBreaking News
চলচ্চিত্রের পর্দা পেরিয়ে শ্রেণিকক্ষে: কাছাড় কলেজে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শিক্ষাদান নিয়ে আলোচনা

ওয়েটুবরাক, ১ সেপ্টেম্বর: চলচ্চিত্রের পর্দায় যে গল্প, জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়, তাকে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষণ-শেখন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে কাছাড় কলেজে অনুষ্ঠিত হল চলচ্চিত্র নির্মাণ ও শিক্ষাদান বিষয়ক এক আন্তঃক্রিয়ামূলক অধিবেশন। কাছাড় কলেজের ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন কারিগরি ও নান্দনিক দিকের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের বহুমাত্রিক ব্যবহার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
৩১ আগস্ট কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রিসোর্সপার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকর্মী বিশ্বজিৎ শীল। তাঁর অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জয়দীপ বিশ্বাস উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যে চলচ্চিত্রের সঙ্গে শিক্ষা ও সমাজের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি শিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি সমকালীন মাধ্যমগুলিকে শিক্ষাক্ষেত্রে যথাযথভাবে ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদ্মশ্রী চক্রবর্তী স্বাগত ভাষণে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশের সম্ভাবনার দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন রিসোর্সপার্সন বিশ্বজিৎ শীল। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায় ও সূক্ষ্ম দিক সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। চলচ্চিত্রের ভাবনা নির্বাচন থেকে শুরু করে চিত্রনাট্য, দৃশ্য পরিকল্পনা, ক্যামেরার ব্যবহার, সম্পাদনা, শব্দ, অভিনয় এবং চলচ্চিত্রের সামগ্রিক ভাষা—নির্মাণের বিভিন্ন স্তর তিনি সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে একটি চলচ্চিত্র কীভাবে দর্শকের চিন্তা, অনুভূতি ও উপলব্ধিকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
বিশ্বজিৎ শীল বিশেষভাবে আলোচনা করেন শ্রেণিকক্ষে চলচ্চিত্রকে কীভাবে কার্যকরভাবে শিক্ষাদানের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র কেবল অবসর বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং মানবজীবনের বিভিন্ন দিককে শিক্ষার্থীদের সামনে জীবন্তভাবে তুলে ধরতে পারে। একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য, চরিত্র, সংলাপ, চিত্রভাষা কিংবা নির্মাণশৈলীকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ঘটানো সম্ভব বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সুদীপ কুমার দাসও মূল্যবান ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক, গল্পের রূপান্তর এবং দৃশ্যশিল্পের মাধ্যমে সাহিত্যিক ভাবনার নতুন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা উঠে আসে। তিনি চলচ্চিত্রকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে দেখার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে এর যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করেন।
পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত এক আন্তঃক্রিয়ামূলক পর্ব। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্রের ভাষা, শ্রেণিকক্ষে চলচ্চিত্রের ব্যবহার এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন ও মতামত ব্যক্ত করেন। বিশ্বজিৎ শীল তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ফলে পুরো অধিবেশনটি একটি একমুখী বক্তৃতার পরিবর্তে মতবিনিময় ও জ্ঞান-আদানপ্রদানের প্রাণবন্ত মঞ্চে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রেষ্ঠা কর। অধিবেশনটির সমগ্র কার্যক্রম ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হেমন্ত কুমার বরা পরিচালনা করেন। তাঁর সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি একটি সুসংগঠিত ও আন্তঃবিভাগীয় শিক্ষামূলক আলোচনার রূপ পায়।
অনুষ্ঠানে কাছাড় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে চলচ্চিত্র ও দৃশ্য-সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের চিন্তাজগতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছে। সেই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা এবং চলচ্চিত্রকে শিক্ষাদানের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের কৌশল নিয়ে এমন একটি আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে রাজু ব্রহ্ম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।


