Barak UpdatesAnalytics

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্ব ও আত্মবলিদানের কথা নব প্রজন্মকে বোঝাতে হবে : কণাদ

ওয়ে টু বরাক, ১৭ আগস্ট : রবিবার, শিলচরে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলা বিজেপির লিগ্যাল অ্যান্ড ল্যাজিসলেটিভ সেলের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করলেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ।

এ দিন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার প্রতীক জাতীয় পতাকা বা ত্রিরঙ্গা। ১৯২১ সালে এই জাতীয় পতাকা তৈরি করেন পিঙ্গলি ভ্যাঙ্কাইয়া। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই গণপরিষদে এই নকশাটি গৃহীত হয়। জাতীয় পতাকার মধ্যে থাকা তিনটি রঙের প্রতিটি পৃথক তাৎপর্য রয়েছে। জাতীয় পতাকার উপরের দিকে থাকা গেরুয়া রং ত্যাগ, সাহস এবং বৈরাগ্যের প্রতীক। সাদা রং শান্তি ও সত্যের পথ নির্দেশ করে এবং সবুজ রং দেশের সমৃদ্ধি, উর্বরতা এবং মাটির সাথে সম্পর্কের প্রতীক। জাতীয় পতাকার মধ্যে থাকা অশোক চক্র প্রগতির প্রতীক।

প্রসঙ্গত দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিবৃত্ত টেনে সাংসদ কণাদ বলেন, দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্ব,ত্যাগ ও আত্মবলিদানের কথা নব প্রজন্মকে অবগত করতে হবে, যাতে নব প্রজন্ম রাষ্ট্রীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক কচিকাঁচা পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সাংসদের আহ্বান, ২০৪৭ সালে বিকশিত বৈভবশালী ভারতবর্ষ গঠনে অতি আবশ্যক রাষ্ট্রীয় চেতনা। তাই নব প্রজন্মকে দেশের গৌরবোজ্জ্বল অতীত, ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের বিষয়ে অবগত করতে সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত ও স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আর বেশি করে আলোচনা, চর্চার প্রয়োজন রয়েছে।

সাংসদ বলেন, আজকের দিনে কাছাড় জেলা লিগ্যাল অ্যান্ড ল্যাজিসলেটিভ সেল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। কণাদ আরও বলেন, জাতীয় পতাকার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীতেরও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে এবছরই প্রথম জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশিত হয় লালকেল্লায়। ১৮৭৫ সালে কিংবদন্তি সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘আনন্দমঠ’ গ্রন্থে ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীত ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতবর্ষের কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলিতে গৃহীত হয়।

‘বন্দেমাতরম’ শব্দগুচ্ছের তাৎপর্য ব্যাখ্যায় সাংসদ উল্লেখ করেন, দেশকে মা হিসেবে বন্দনার কথা বলা হয়েছে। আর এই বন্দে মাতরম সঙ্গীতে উদ্বুদ্ধ দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করতে অগণিত মানুষ আত্মবলিদান দিয়েছেন। অশেষ ত্যাগ স্বীকার করেছেন অগণিত দেশভক্ত। তাদের অপরিসীম অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি নব প্রজন্মকে অবগত করানো আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই হবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ।

এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য পেশ করেন শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, কাছাড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কঙ্কন নারায়ণ সিকিদার, বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা,
আইনজীবী অমলাভ দাস। জেলা বিজেপির লিগ্যাল সেলটির আহ্বায়ক রত্নাঙ্কুর ভট্টাচার্যের পৌরোহিত্যে এই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সম্পাদক পঞ্চমী নাথ, প্রদেশ মিডিয়া সেলের জয়ন্ত চক্রবর্তী, কাছাড় জেলা যুব মোর্চার সভাপতি কুলদীপ নেহাল চৌধুরী, আইনজীবী জয়দীপ বিশ্বাস প্রমুখ। পরে শনিবার স্বাধীনতা দিবসে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও শংসাপত্র তুলে দেন রাজ্যসভার সাংসদ সহ অতিথিরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker