Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ত্রিকোণ প্রেমের বলি অলইছড়ার কিশোরী!
ওয়েটুবরাক, ৬ আগস্ট: হাইলাকান্দির অলইছড়ায় নিহত নাবালিকা ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন হয়েছেন। এর আগে তাকে শারীরিক নিগ্রহ এবং গণধর্ষণও করা হয়। ধৃতদের জেরা করে এমনই অনুমান করছে জেলা পুলিশ। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
সিনিয়র পুলিশ সুপার অমিতাভ সিনহা জানান, বুধবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ। শিলচর থেকে মনোজ দাস ওরফে রাজদীপ (২৩) এবং কাটলিছড়া থেকে ধীরাজ দাস (১৮)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে হাজির করানো হয়। এর আগে সোমবার তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জনকে ছ’দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে এবং নাবালক অভিযুক্তকে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।
সিনিয়র পুলিশ সুপার প্রাথমিক তদন্তের উল্লেখ করে বলেন, নিহত কিশোরীর সঙ্গে অপু মালাকার ও মনোজ দাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই সময়ে ওই কিশোরীর তাদের দু’জনের সঙ্গে সম্পর্ক থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
দুজনের সঙ্গে কিশোরীটির সম্পর্কের কথা নিশ্চিত হতেই তারা তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার ছক কষে। তবে তা তাকে বুঝতে না দিয়ে তারা তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। ঘটনার দিন ১ আগস্ট মোবাইলে যোগাযোগ করেই পৌনে এগারোটায় তারা তার বাড়ি আসে। পুলিশের অনুমান, মা বাড়িতে না থাকার কথাটা সে-ই দুইজনের একজনকে জানিয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এরপরই দুই প্রেমিক তাদের তিন বন্ধুকে নিয়ে তার ঘরে যায়। প্রথমে দুইজনকে কেন কথা দিয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে প্রচণ্ড মারপিট করে। জখম অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তারই ঘরের ইট ও রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রীর সাহায্যে খুন করা হয়।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি দল ময়নাতদন্ত করে। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়। একই সঙ্গে জেলা এবং রিজিয়নাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
খুব শীঘ্রই এই মামলার চার্জশিট আদালতে পেশ করা হবে বলে অমিতাভ সিনহা জানিয়েছেন।

