Barak UpdatesHappeningsBreaking News
গানে-কথায়-কবিতায় শিলচরে বরাক বঙ্গের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

ওয়েটুবরাক, ২১ ফেব্রুয়ারি: বরাক উপত্যকার লেখক-সাহিত্যিকদের অনুবাদে গুরুত্ব দিতে বললেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিন্দ্য সেন। আজ বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের শিলচর শহর আঞ্চলিক সমিতি আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
অনিন্দ্য বলেন, অনুবাদ ছাড়া ভাষা বাঁচিয়ে রাখা মুশকিল। কিন্তু আক্ষেপের কথা, অনুবাদ কম করছেন বরাকের বাঙালিরা। আর অনুবাদ হয় না বলে আমাদের লেখকরা নিজস্ব পরিসরে সীমিত থাকেন।
আরেক নির্ধারিত বক্তা শিলচর উইমেন্স কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মনোজ কুমার পাল বলেন, আসলে ভাষা ও ধর্মে বিভেদ নেই । এই দুইয়ের সংকটটা শুধু রাজনৈতিক কারণে। তিনি ভাষার জন্য এপারে ওপারে প্রাণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ভাষা চাপানোর প্রতিবাদ যেমন ৫২-য় পূর্ব পাকিস্তানে হয়েছিল, তেমনি ৬১-তে হয় শিলচরে। তাঁর কথায়, ভাষা জীবন্ত থাকে ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর বাংলাদেশের পরিস্থিতি টেনে শোনান, সেদেশের জনগণ এবার সব অপপ্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক সমিতির সভাপতি দীপক সেনগুপ্ত।
এদিন বঙ্গভবনের চতুর্থ তলের ‘অনন্ত দেব স্মৃতি সভা গৃহে’ নির্মিত অস্থায়ী শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে অনুষ্ঠান শুরু হয়। স্বাগত ভাষণে সম্পাদক সুশান্ত কুমার সেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আলোচনা করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব দর্শকদের স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে বহুভাষিক গানে ও কবিতায় জমজমাট অনুষ্ঠান। এতে বাংলা ছাড়াও অসমিয়া, নেপালি, মৈতৈ মণিপুরি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, ডিমাসা গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়। শিলচর শহর আঞ্চলিক সমিতির সদস্যরা ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সৃষ্টি কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি ” গানটি পরিবেশন করলে সভায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিল্পীদের তবলায় সহযোগিতা করেন বিশ্বজিৎ দেব। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন মানসী সিনহা, সঞ্জীব রায়, রুনা পাল ও মুক্তা দে।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলা সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিজিৎ ধর।




অতিসত্বর সময়োপযোগী এবং উপযুক্ত সংবাদ পরিবেশনে ওয়ে টু বরাক অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটুক এই কামনা করছি।
অসংখ্য ধন্যবাদ, এভাবেই পাশে থাকবেন—-