NE UpdatesAnalyticsBreaking News
জুবিন হত্যা মামলার চতুর্থ শুনানি, শ্যামকানু সহ পাঁচ অভিযুক্তের জামিন আবেদন

গুয়াহাটি : জুবিন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পাঁচজনই আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন। শনিবার ‘জুবিন গার্গ হত্যা’ মামলার চতুর্থ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কামরূপের মুখ্য বিচার বিভাগীয় জেলা ও সেশন আদালতে সরকারি পক্ষের নিযুক্ত সিনিয়র আইনজীবীদের দল প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এ দিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে জুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গ সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেন, সিঙ্গাপুরে ইয়টে উপস্থিত প্রত্যেকেই দোষী এবং সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
শনিবার আদালতে জুবিন গার্গ মামলার পাঁচ অভিযুক্তই জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আগামী ২২ জানুয়ারি এই আবেদনের শুনানি হবে। চার্জফ্রেমের প্রক্রিয়া শুরু হবে ৩০ জানুয়ারি। শ্যামকানু ও সিদ্ধার্থের আইনজীবীরা কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি এই শুনানিতে অংশ নেন। এ প্রসঙ্গে সরকার পক্ষের আইনজীবী জিয়াউল কামার শুনানির পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “জুবিন হত্যা মামলায় পাঁচ অভিযুক্তই এখন পর্যন্ত জামিনের আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে সিদ্ধার্থ, অমৃতপ্রভা ও সন্দীপন গার্গ জামিন আবেদন দাখিল করেছিলেন। আজ শ্যামকানু মহন্ত ও নন্দেশ্বর বরার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন দাখিল হয়েছে। বাকি তিনজন আগেই আবেদন করেছিলেন। ২২ জানুয়ারি এই আবেদনের শুনানি হবে। চার্জফ্রেম সহ অন্যান্য আদালতের প্রক্রিয়া ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। শ্যামকানু ও সিদ্ধার্থের আইনজীবীরা কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।”
সরকারি আইনজীবী জিয়াউল কামার আরও জানান, হাফলং কারাগারে অভিযুক্ত শেখরজ্যোতি গোস্বামীর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। তাই চিকিৎসার জন্য তিনি আবেদন করেছেন। চিকিৎসা মৌলিক অধিকার হওয়ায় সরকার পক্ষ আদালতে চিকিৎসা প্রদানের বিরোধিতা করেনি।
শনিবারের শুনানিতে জুবিনের বোন পামি বরঠাকুরের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন গরিমা শইকিয়া গার্গও। সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গরিমা দাবি করেন, সেই সময় সিঙ্গাপুরে ইয়টে থাকা প্রত্যেকেই দোষী। তিনি বলেন,
“ইয়টে থাকা সবাই দোষী। সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী অসমিয়াদেরও বিচারের আওতায় আনতে ইতিমধ্যেই আবেদন করেছি। সিঙ্গাপুর পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি।” আদালত থেকে বেরিয়ে গরিমা আরও বলেন, “অসমে আমরা কখনও জুবিনের এমন পরিণতি হতে দিইনি। তারা কি অসমিয়া মানুষ ছিল না? সিঙ্গাপুরে থাকা প্রবাসী অসমিয়াদের তদন্তের আওতায় আনতেই হবে। ৭৫ মিনিট ধরে কেন জুবিন গার্গের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি? তাদের কাছে কি জুবিন গার্গ কেবলই বিনোদনের উপকরণ ছিল?”
এ দিকে, এসআইটি দাখিল করা চার্জশিটে নাম না থাকলেও, সিঙ্গাপুরে থাকা অসমিয়াদের কি বিচারের আওতায় আনা যাবে ? এ প্রশ্নে সরকারি পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দলের প্রধান জিয়াউল কামার বলেন, “গরিমা গার্গ নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন, সেটি তাঁর কাছে সঠিক হতে পারে। কিন্তু পুলিশ যে চার্জশিট দাখিল করেছে, তাতে তাদের অভিযুক্ত বা সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “সাক্ষ্যগ্রহণের সময় যদি নতুন তথ্য বা উপাদান সামনে আসে, তাহলে সিআরপিসির ধারা ৩১৯ (বর্তমানে বিএনএসএস ৩৫৮) অনুযায়ী নতুন করে অভিযুক্তকে সামিল করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের আইনগত অধিকার রয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত, তবে যেকোনও মামলাতেই তাদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।”



