Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভাষাশহিদ দিবসে গান্ধীবাগে অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটর বিকল!
ওয়েটুবরাক, ২১ মে : ভাষাশহিদ দিবসে গান্ধীবাগ পার্কের জেনারেটর বিকল হয়ে পড়ে। ফলে গোলঘরের অনুষ্ঠানে বহু শিল্পী সঙ্গীত-নৃত্যের জন্য নাম লিখিয়েও পরিবেশন করতে পারেননি। বিষন্ন মনে তাঁদের গান্ধীবাগ থেকে বেরিয়ে পড়তে হয়।
সোমবার ভাষাশহিদ দিবসে বেলা ২টা ৩৫ মিনিটকে সামনে রেখে শত শত মানুষ এসে জমায়েত হন। সবাই ভাষাশহিদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। একে কেন্দ্র করে চিত্রশিল্পীরা গান্ধীবাগে তাৎক্ষণিক ছবি এঁকে প্রদর্শন করেন। গোলঘরে বেলা একটা থেকে পুরসভার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের শিলচর শহর আঞ্চলিক সমিতি। মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়করা তখন গান্ধীবাগে উপস্থিত হন। আসেন জেলাশাসক সহ পদস্থ সরকারি কর্তারাও। এই ধরনের কার্যক্রমে দুইবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার জেনারেটর দিয়ে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও বিকাল চারটা নাগাদ যখন ফের বিদ্যুৎ বিদায় নেয়, তখন গান্ধীবাগের জেনারেটর আর চালাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মী। কিছুসময় চেষ্টা করে তিনি রায় দেন, এটি এখন চলবে না। শেষপর্যন্ত চলেইনি। বাধ্য হয়েই অনুষ্ঠান বিনা ঘোষণায় সমাপ্ত করতে হয়। তাতে শহরের সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কি আরও সতর্ক থাকা দরকার ছিল না? দ্বিতীয়ত, ভারতকণ্ঠ দেবজিৎ সাহা তখনও গোলঘরে বসা। তিনি সবাইকে নিয়ে ‘আগুনের পরশমণি’ গাওয়ার পর বসেছিলেন এক শিশুশিল্পীর গান শুনবেন বলে। শেষে মাইক ছাড়াই ওই শিশুশিল্পী সঙ্গীত পরিবেশন করে। এর একটু আগে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য সেখানে বক্তৃতা করেছেন, প্রশ্ন ওঠে, সাংসদের বক্তৃতার সময়ে বা দেবজিতের গানের সময়ে এমনটা ঘটলে কী হতো?
ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর ওই সময়টাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং গান্ধীবাগ পার্কের জেনারেটর বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চিন্তার উদ্রেক করে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
ভাষাশহিদ দিবসের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শহরের নাগরিকরা পার্কের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সন্ধ্যারাতে পার্কে যখন ছেলেমেয়েরা টিকিট কেটে ঘুরে বেড়ায়, তখন বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর যদি এ ভাবে বিকল হয়ে পড়ে, তবে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যে কোনও অঘটন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।


