Barak UpdatesHappeningsBreaking News
নক্ষত্র পতন, জন্মজিৎ রায়ের জীবনাবসান

ওয়েটুবরাক ১৯ জানুয়ারি: বরাক উপত্যকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য জগতে আরও এক নক্ষত্র পতন। প্রয়াত হলেন করিমগঞ্জ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জন্মজিৎ রায়। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। তবু বরাক উপত্যকার প্রায় সব ব্যাপারে খবর রাখতেন, বাড়িতে থেকে আলোচনা করতেন, মতামত দিতেন। রবিবার শেষরাতে তাঁর জীবনদীপ নির্বাপিত হয়।
তিনি ছিলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের একজন বরিষ্ঠ কর্মকর্তা। এক সময়ে করিমগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রয়াণে বরাক বঙ্গের সর্বস্তরে শোক পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রাধিকা রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “ছাত্রজীবনেই তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। কর্মজীবনে তাঁকে পেয়েছি অভিভাবক হিসেবে।” সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত জানান, “সংগঠনের অন্যতম অগ্রণী পুরোধা, সম্মেলক সঙ্গীত রচয়িতা, সুপণ্ডিত, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নিবিষ্ট গবেষক, কবি ও সুলেখক পরম শ্রদ্ধার জন্মজিৎ রায়ের প্রয়াণে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। এক কঠিন সময়ে আরও এক ভরসার স্থল হারালো সন্মেলন, গোটা বরাক উপত্যকা এবং সার্বিকভাবে ঈশান বাংলার বৌদ্ধিক জগত।”
অধ্যাপক জন্মজিৎ রায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে ছিলেন। করিমগঞ্জ শহরে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০০৮ সালে মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণের ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিলেট শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারত থেকে চারজনকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন করিমগঞ্জ জেলার একনিষ্ঠ গবেষক ড. জন্মজিৎ রায়। বৈষ্ণব তত্ত্বের ওপর অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তাঁকে ওই স্বর্ণপদকে সম্মানিত করা হয়েছিল।



