Barak UpdatesHappeningsCulture
নবোদ্যমে পথচলা শুরু সম্মিলিত লোকপরিষদের

ওয়ে টু বরাক, ৯ সেপ্টেম্বর : নবোদ্যমে পথচলা শুরু হলো বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতি চর্চা ও গবেষণা বিষয়ক সংস্থা সম্মিলিত লোক পরিষদের। ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার বেলা ৪টায় শিলচর ক্লাবরোডের ইলোরা হোটেলের কনফারেন্স হলে এ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় পরিষদের সাধারণ সভা। বিগত বর্ষের কাজকর্মের আলোচনার পর চলতি কমিটি ভঙ্গ করে পরিষদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পরিষদের নবগঠিত কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে পরিষদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
সম্মিলিত লোক পরিষদের জন্ম হয়েছিল ২০২১ সালে। বিগত চার বছরে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া লোকসংস্কৃতির চর্চার জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেই।সব কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষে এবারের নতুন কমিটিকে আরও বৃহৎ আকারে সাজানো হয়েছে। নতুন কমিটির মুখ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রাই, পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী এবং রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বিমলেন্দু রায়, অতীন দাশ, বাবুল হোড়, সাধন পুরকায়স্থ ও অসীম রঞ্জন মোদক।
নতুন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন ড. অনুপ কুমার রায়। কার্যকরী সভাপতি স্বর্ণালী চৌধুরী। রয়েছেন চারজন সহসভাপতি যথাক্রমে- পণ্ডিত অনিমেষ দেব, শুক্কুর আলি মজুমদার, শেখর দেব ও ড. সূর্যসেন দেব। সংগীত সংযোজক বিধান লস্কর, সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন মালাকার। সহ-সাধারণ সম্পাদক সৌমিক পাল । সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী। সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক অজিত দেব ও তন্দ্রা রায়। প্রচার সম্পাদক এর দায়িত্বে রয়েছেন কমলেশ দাশ। কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন ঝুমা বর্ধন। এছাড়াও কার্যকরী সদস্য হিসেবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন রেবা ভৌমিক, হীরা শুক্লবৈদ্য, প্রমেশ দাস, রাজু দাস, প্রভাস দাস, আশুতোষ দাস, সুস্মিতা চৌধুরী, শুক্লা নাথ, দিপালী নাথ, অমিতা নাথ ও আল্পনা বর্মণ ।
এ দিন পরিষদের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সভাপতি অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘সম্মিলিত লোক পরিষদের মূল উদ্দেশ্য হবে বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতির চর্চা এবং তার প্রচার-প্রসার। এরজন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গীয় ধারার লোকনৃত্য ধামাইলের স্বীকৃতি আদায় করা। এই নিয়ে পরিষদ অতীতে যে কাজ করেছে, সেই কাজকে আরও তৎপরতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।‘
তিনি আরও বলেন, আগামীতে শিলচরে বড় আকারে ধামাইল উৎসবের আয়োজন করা হবে। এরজন্য আসাম সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতও রয়েছে। ২৬ মে ধামাইল গানের জনক রাধারমণ দত্তের জন্মদিনকে ধামাইল দিবস হিসেবে স্বীকৃতির আদায়ের আন্দোলনকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে পরিষদ এবং একদিন এই স্বীকৃতি আদায় হবে বলেও তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন মালাকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা তথা বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতি চর্চায় সকলে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় পরিষদ। পরিষদের কার্যকরী সভাপতি স্বর্ণালী চৌধুরী বলেন, পরিষদের নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ শিল্পী সংগঠক যেমন রয়েছেন তেমনি অনেক উদ্যমী যুবকও রয়েছেন। অভিজ্ঞতা আর যুবশক্তির এই মেলবন্ধন পরিষদের কাজকর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হবে। বরাক উপত্যকার গ্রামাঞ্চল থেকেও লোকসংস্কৃতিরও অনেক কিছু লুপ্ত হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন পরিষদের সহসভাপতি শেখর দেব। পরিষদ সেই লুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতিকে রক্ষা করার লক্ষেই কাজ করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে।
পরিষদের সহসভাপতি ড. সূর্যসেন দেব তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বরাক উপত্যকায় লোকসংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার রয়েছে। লোকসংস্কৃতির এই ভাণ্ডারকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি বরাক উপত্যকার বাইরের জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এর জন্য অ্যাকাডেমিক চর্চাও জরুরি। পরিষদর এ বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করবে বলে তিনি জানান। সাধন পুরকায়স্থ তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, লোকসংস্কৃতির চর্চাকে শুধুমাত্র শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামেগঞ্জেও নিয়ে যেতে হবে।
পরিষদের সংগীত সমন্বয়ক বিধান লস্কর বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকেই একদিন বৃহৎ কাজ হয়। পরিষদের প্রত্যেক সদস্য যেন নিজের পাড়া বা গ্রাম থেকেই সামর্থ ও সুবিধা অনুযায়ী লোকসংস্কৃতির চর্চার চেষ্টা শুরু করেন। এতে একদিন বড় লক্ষে পৌছানো সম্ভব হবে। এছাড়াও এ দিনের সভায় বক্তব্য রাখেন পরিষদের অন্য দুই সহসভাপতি শুক্কুর আলি মজুমদার ও পণ্ডিত অনিমেষ দেব এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী প্রমুখ। প্রত্যেকেই লোকসংস্কৃতির চর্চার গুরুত্ব ও পরিষদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।



