NE UpdatesHappeningsBreaking News
স্বাধীনতা দিবসেই আট ঘণ্টার অনশনে বসলেন বিধায়ক অখিল গগৈ

শিবসাগর, ১৫ আগস্ট : দেশ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিনই বিধায়ক অখিল গগৈ অনশনে বসলেন। শিবসাগরের বিধায়কের একটাই দাবি— সম্প্রতি উজান অসমের বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে আট ঘণ্টার অনশনে অংশ নেন বিধায়ক।
বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রথম শর্ত হল শিবসাগর জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই বন্যা প্রাকৃতিক নয়। নাগাল্যান্ড ও অসমে ব্যাপকভাবে কয়লা ও পাথর খননের ফলেই এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিধায়ক গগৈ অবৈধ খননের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের দাবিও তোলেন। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ১,০০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দাবি করেন।
বিধায়ক গগৈ বলেন, আজ দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। সবাই অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করছেন। কিন্তু শিবসাগর, চরাইদেও ও যোরহাটের মানুষ স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারেননি। গত ১৯ জুলাই আমাদের এই তিনটি জেলায় যে মহাপ্রলয় নেমে এসেছিল, ১৭৫০ সালে দিখৌ নদীতে এমন মহাপ্রলয় এসেছিল, ১৯৫০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল— সেই সমস্ত দুর্যোগের থেকেও এবার আরও বড় বিপর্যয় হয়েছে। এত বড় বিপর্যয়ের পরও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনও সাড়া আসেনি।
তিনি আরও বলেন, অসমের তিনটি জেলার যে সমস্ত বাড়িতে বন্যার জল ঢুকেছে, প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেও ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। গগৈ আরও বলেন, এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত। এই ঘটনার সিবিআই পর্যায়ে তদন্ত করা উচিত। সব বিষয়েই সরকার সিবিআই-সিবিআই করে থাকে, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের ক্ষতি ও ধ্বংস হয়ে গেল, তখন তারা কেন সিবিআই তদন্তের ঘোষণা করে না?



