Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News
মহর্ষি বিদ্যামন্দিরের ২৯তম বার্ষিক অনুষ্ঠান
মোবাইলের আসক্তি বিপথে চালিত করতে পারে পড়ুয়াদের, মন্তব্য অধ্যক্ষা শমিতা

ওয়ে টু বরাক, ১৯ জানুয়ারি : মোবাইলের আসক্তি বাড়ছে আজকের প্রজন্মের মধ্যে। এতে দিন দিন সৃজনশীল প্রতিভা হারাচ্ছে তারা। এমন মন্তব্য শিলচর মহর্ষি বিদ্যা মন্দিরের অধ্যক্ষা শমিতা দত্তের। রাজীব ভবনে বিদ্যামন্দিরের ২৯তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। অধ্যক্ষা শমিতার কথায়, মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় আসক্তি একজন শিক্ষার্থীকে বিপথে চালিত করতে পারে। এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এককথায় সময় থাকতে হাল ধরতেই হবে আমাদের। শিলচর মহর্ষি বিদ্যা মন্দিরের প্রায় তিন দশকের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপথে প্রত্যেক শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর অবদানের ব্যাপারে ওই দিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষা। টানা ২৫ বছর অধ্যক্ষার দায়িত্ব পালন করার জন্য অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হয় শমিতা দত্তকে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিলচর মহর্ষির সঙ্গে জুড়ে থাকা ক’জন শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীও বার্ষিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে কথা প্রসঙ্গে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করেন। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা কস্তুরী পাল বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে শিলচর মহর্ষি। গুটি গুটি পায়ে এই প্রতিষ্ঠান মহীরূহের রূপ নিয়েছে। এই শিক্ষার মন্দিরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই দায়িত্ব আমাদের সবার। অভিভাবকদের উদ্দেশে কস্তুরী পালের বার্তা ছিল, নিজের সন্তানের সঙ্গে অন্যের তুলনা করবেন না। এমনটা করলে ছেলেমেয়েরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই, তুলনা না করে নিজের সন্তানকে দিশা দিতে হবে। তবেই, সাফল্য আসবে।
শিক্ষিকা মালবিকা সেনের বক্তব্য, মহর্ষি বিদ্যামন্দির পূর্ণাঙ্গ বহুমুখী শিক্ষার পরিবেশকে আঁকড়ে ধরেই বহমান। মহর্ষি মহেশ যোগীর ‘ভাবাতীত ধ্যান’ অন্যদের থেকে ব্যতিক্রমী করেছে এই প্রতিষ্ঠানকে। কারণ, মহর্ষি শিক্ষা – প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের এই কুড়ি মিনিট ধ্যান অনুশীলন যেমন ইতিবাচক শক্তির উৎস, তেমনি সঠিক মানসিক বিকাশেরও দিশারী।

অশিক্ষক কর্মী বিশ্বরাজ চক্রবর্তীর কথায়, আমাদের এই দীর্ঘ পথ চলায় অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের পেয়েছি। সেইসব ছাত্রছাত্রীরা আজকের দিনে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। দুইজন শিক্ষককেও আমরা হারিয়েছি। তাঁদের মধ্যেএকজন বাপি আইন। তিনি১৯৯৬ ইংরেজিতে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যজন ভাস্কর বিজয় গুপ্ত। তিনি আমাদের স্কুলের একজন একনিষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন। আজকেআর দিনে তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করতেই হয়।

আবেগপ্রবণ হয়ে আরেক অশিক্ষক কর্মী অনুপমা বিশ্বাসের মন্তব্য, মহর্ষির আদর্শের বার্তা নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে স্কুলের জন্য শিক্ষার্থী আনতে হয়েছে। আজ এই স্কুল বরাকের বুকে এক দৃষ্টান্ত। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক বীরেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, মহেশ যোগীর দেখানো পথকে সঙ্গী করে আজকের দিনে শিক্ষানুরাগী মহলের অন্যতম বিশ্বাস ও ভরসার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই জায়গায় পৌঁছাতে গিয়ে শিক্ষক-অশিক্ষকদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন অভিভাবকরাও। তাই তো তিন দশক আগে তিন জন পড়ুয়া নিয়ে সঠিক শিক্ষাদানের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রছাত্রীর বিদ্যার মন্দির। আগামী দিনে তাঁদের হাতেই সুরক্ষিত থাকবে শিলচর মহর্ষির পরম্পরা ও ঐতিহ্য। হাতে হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের শ্রীবৃদ্ধির জন্য এগিয়ে আসবেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, এটাই বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, ১৮ জানুয়ারি সকাল থেকে রাত অবধি চলে বার্ষিক আয়োজন। বিভিন্ন পর্যায়ে সঞ্চালনায় পড়ুয়াদের মধ্যে ছিল প্রথম দেব, বেদত্রয়ী রয়, সৌমিকি দেব ও জ্যোতিরাদিত্য চক্রবর্তী। শিক্ষিকাদের মধ্যে দুই সঞ্চালক ছিলেন শতাক্ষী ভট্টাচার্য ও বিজেতা দে পুরকায়স্থ।



