Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভাষাশহিদদের অসম্মান বরদাস্ত নয়, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি

ওয়েটুবরাক, ২৭ অক্টোবর: ডিমাসা রাইটার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তেশ্বর কেম্প্রাই উনিশে মে-র ভাষাশহিদদের “বাংলাদেশি” ও “বহিরাগত” বলে যে মন্তব্য করেছেন, রূপম সাংস্কৃতিক সংস্থা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়। এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল বলেন, এই ধরনের মন্তব্য কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং বরাক উপত্যকার মানুষের আত্মসম্মান ও ভাষাশহিদদের ত্যাগের প্রতি এক চরম অবমাননা। এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য উপত্যকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য নষ্ট করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
রূপম এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বরাকের ভাষাশহিদদের অপমান করার জন্য ক্ষমা চাইতে বলে।
রাজ্য সরকারের প্রতি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করারও আর্জি জানানো হয়।
নিখিলবাবুর কথায়, “ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর” নামকরণের দাবি বরাক উপত্যকার সমস্ত ভাষিক জনগোষ্ঠীর যৌথ ও সর্বসম্মত দাবি, যা ২০০৫ সাল থেকেই অব্যাহত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে আসাম সরকার ও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ জারি করা হয়েছিল।কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে নতুন নামের বানানের গ্যাজেট নোটিফিকেশন জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই গ্যাজেট নোটিফিকেশন আজও জারি করা হয়নি। ২০১৬ সালে ভাষাশহিদ স্টেশন নামকরণের সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সময়ে এই রেলস্টেশন অন্য কারও নামে নামাঙ্কিত করার নতুন করে কোনও দাবি উত্থাপন করার মানেই হল অকারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও জলঘোলা করার চেষ্টা।
রূপম সাংস্কৃতিক সংস্থা আসাম সরকারের প্রতি দাবি জানায়, আর বিলম্ব না করে “ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর” নামকরণের গ্যাজেট নোটিফিকেশন অতিসত্বর জারি করা হোক। নিখিলবাবুর বক্তব্য, এটাই হবে বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মানুষের মধ্যে প্রকৃত সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের বার্তা।



