Barak UpdatesAnalyticsBreaking News
বড়খলা বটলিঙ প্ল্যান্টের আধুনিকীকরণ প্রয়োজন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীকে চিঠি কণাদের

ওয়ে টু বরাক, ২১ আগস্ট : বড়খলা এলপিজি বটলিঙ প্ল্যান্টের একাধিক সমস্যা নিরসনে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্ল্যান্টের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
গত কয়েক বছরে প্ল্যান্টের পরিচালনগত দক্ষতা হ্রাস পেয়েছে। শুধু তাই নয়, প্ল্যান্টের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমনকি বড়খলা প্ল্যান্টকে আরও উন্নীতকরণ এবং শক্তিশালী করার পরিবর্তে অন্যান্য বটলিঙ প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি সংগ্রহ ও বিপণন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এরচেয়েও উদ্বেগের বিষয় হল, পরিবহণ বা ‘হলেজ’ কর্মীদের সংখ্যা ৭৩ থেকে কমিয়ে ৫৪-তে নামিয়ে আনার প্রস্তাব, যা অনেক পরিবারের জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ‘কনসাইনমেন্ট’ বা নির্দিষ্ট কাজের চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন কর্মীর কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এসব বিষয়ে আলোকপাত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে সাংসদ কণাদ উল্লেখ করেন, এতদঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্ল্যান্টটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। তাই, প্ল্যান্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস হলে বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল কর্মী বা সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ কামনা করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, রাজ্যের মধ্যে কাছাড় জেলায় স্থাপিত বড়খলা বিপি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টের গুরুত্ব অপরিসীম। বরাক উপত্যকা এবং সংলগ্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জনগণের জন্য প্ল্যান্টটি অতি আবশ্যক। ১৯৯১ সালে চালু হওয়া এবং পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয় ‘ডাবল-ক্যারোসেল’ ব্যবস্থায় উন্নীত এই প্ল্যান্টটি বরাক উপত্যকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মিজোরাম, ত্রিপুরা, মণিপুর এবং মেঘালয়ের কিছু অংশে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বরাক উপত্যকায় পরিষেবা প্রদানকারী একমাত্র এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টটি রয়েছে বড়খলায়।তাই এতদঞ্চলের জন্য প্ল্যান্টের নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ পরিচালনা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, বড়খলা বটলিং প্ল্যান্টের বর্তমান অবস্থা ও পরিচালনগত পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান, প্ল্যান্টের আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, পণ্য পরিবহন বা ‘হলেজ’ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সংখ্যা হ্রাসের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা, ‘কনসাইনমেন্ট’ বা চালান-ভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়োজিত কর্মীদের বর্তমান অবস্থা এবং প্ল্যান্টটির কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত থাকে তা নিশ্চিতকরণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কাছে আর্জি জানান সাংসদ কণাদ। তিনি মনে করেন, বড়খলা প্ল্যান্টের কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর ওপর নির্ভরশীল কয়েকশ’ পরিবারের কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা প্রয়োজন।

