Barak UpdatesHappeningsBreaking News
বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় চাকরি খোয়ালেন জিসি কলেজের অস্থায়ী শিক্ষকরা

ওয়েটুবরাক, ১ নভেম্বর: “গুরুচরণ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ায় আনন্দে সবাই মিলে বাজি পুড়িয়েছিলাম, সেদিন বুঝতে পারিনি, ওই বাজির আগুনে পুড়ছিল আমাদের কপাল।” আক্ষরিক অর্থেই কপাল চাপড়ে এ কথা বললেন গুরুচরণ কলেজের অস্থায়ী বা আংশিক সময়ের শিক্ষকদের কয়েকজন।
গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকাভিত্তিক শিক্ষক বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশ হতেই তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আবেদনের জন্য নেট, স্লেট বা পিএইচডি বাধ্যতামূলক। ফলে এত বছর ধরে যাঁরা জিসি কলেজে অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছিলেন, সেই চল্লিশের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে মাত্র দুই-তিনজনই নতুন করে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্তির জন্য আবেদন করতে পেরেছেন। অথচ এতদিন ধরে তাঁরাই বিভিন্ন বিভাগ সামলাচ্ছিলেন। নিয়মিত পাঠদান, ভর্তিপ্রক্রিয়া সামলানো, পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখার মতো সবকাজ হাসিমুখে সম্পাদন করেছেন তাঁরা। তাঁদের অনেকেরই এখন আর অন্যত্র আবেদনের যেমন বয়স নেই, তেমনি অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি লাভের পর যা-ইচ্ছে কাজে লেগে পড়া সম্ভবও হচ্ছে না। স্বল্প উপার্জন হলেও কলেজের টাকাতেই অধিকাংশের ঘর-সংসার চলে। এই অবস্থায় তাঁরা সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে চাকরিচ্যুতির কথা কাউকে বলতে পারছেন না, আবার আন্দোলনের পথেও পা বাড়াতে পারছেন না।
তাঁদের কথায়, বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাশ রয়েছে। সে সব ক্লাশে পাঠদানের জন্য তো আর নেট, স্লেট বা পিএইচডির প্রয়োজন পড়ে না। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে যেহেতু ইউজিসি নর্মস বাধ্যতামূলক নয়, তাঁদের সেখানেই কাজে লাগানো হোক।
কিন্তু গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ ভিত্তিতে কোনও নিযুক্তি হয় না। ইউজিসি নর্মস মেনে যাঁদের নিযুক্তি হবে, তাঁরা যেমন স্নাতকোত্তর চালু হলে সেখানে পড়াবেন, আবার একাদশেও পড়াবেন। নিয়মনীতির বাধ্যবাধকতার জন্যই তিনি নেট, স্লেট বা পিএইচডি না থাকা কাউকেই কোনও ক্লাশে পাঠাতে পারবেন না। উপাচার্য এর বেশি কিছু বলতে না চাইলেও অন্য এক সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্থায়ী শিক্ষকদের অশিক্ষক পদে নিযুক্তির একটি প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। আগ্রহীদের বিভিন্ন বিভাগের অফিসে কাজে লাগাতে চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানেও অবশ্য অনেকের অনীহা। তাঁদের যুক্তি, এতকাল ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে এখন অফিসে বসে কাজ করা একেবারে বেমানান। এর চেয়ে বরং কর্মরত রেখেই তাদের অস্থায়ী শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্য হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হোক।



