Barak UpdatesHappeningsBreaking News

বর্ধিত পুরকর নিয়ে জটিলতা কাটেনি, হাই কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় শিলচরের সমন্বয় মঞ্চ

ওয়েটুবরাক, ১ নভেম্বর : শিলচর পুরসভা পুর নিগমে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু বর্ধিত কর বিতর্কের অবসান ঘটেনি। দফায় দফায় আন্দোলনের পরও সাড়া মেলেনি পুর কর্তৃপক্ষের। এমনকী আরটিআই করেও জবাব মেলেনি। পরে প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চ বাধ্য হয় আদালতের দ্বারস্থ হতে। হাইকোর্টে তাঁদের সেই রিট পিটিশনের ওপর তিনদিন শুনানি হলেও রায়দান কবে নাগাদ হতে পারে, তা অনিশ্চিত। ডব্লুপি(সি) ৫১৯৮/২০২৪ মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৪ নভেম্বর। মঞ্চের কর্মকর্তারা আশাবাদী, রায় যেদিনই হোক, তাঁদের জয় হবেই। কারণ কোনও যুক্তিতে কোনও কর একসঙ্গে চারশোগুণ বাড়তে পারে না।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মঞ্চের পক্ষে ধ্রুব সাহা, বাসুদেব শর্মা, মহীতোষ পাল, সঞ্জীব রায় রঞ্জিত চৌধুরী ও প্রণব দত্ত বলেন, পুর পরিষেবা মিলছে না, অথচ কর বাড়ানো হয়েছে অস্বাভাবিক হারে। নাগরিকদের সম্পদের ভ্যালুয়েশনেও সরকারের জোনাল ভ্যালুর সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই। পাঁচ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, কোনও নির্বাচন নেই। নির্বাচিত বোর্ড বা কাউন্সিল থাকলে নানা বিষয়ে মানুষের কথা বলার সুযোগ থাকে। এখন পুর এলাকার জনগণের কথা বলার মতো কোনও জায়গাই নেই।

মঞ্চের কার্যবাহী সভাপতি আইনজীবী ধ্রুব সাহা জানান, ওই অবস্থায় গত বছরের জুলাই মাসে শহরের সচেতন নাগরিকরা এক সভায় মিলিত হয়ে এই সংস্থা গঠন করে। বর্ধিত কর প্রত্যাহারের দাবিতে প্রথমে ২০২৪-র ১৯ জুলাই তাঁরা জেলাশাসক ও পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ২৭ জুলাই করেন গণসভা। তাতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ জুলাই তারিখে পুরসভার সামনে বিক্ষোভ-ধর্না অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বিভাগীয় মন্ত্রী অশোক সিংহলের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়। পরে ১৪ আগস্ট আরটিআই করে মঞ্চের কর্মকর্তারা পুরকর বৃদ্ধির ব্যাপারে নানা তথ্য জানতে চান। এ পর্যন্ত পুরসভা ওই আরটিআইর জবাব দেয়নি। এর পর আবার মাঠে নামেন তাঁরা। একবার মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠান, আরেকবার পাঠান মুখ্যসচিব, পুর প্রশাসন দফতরের ডিরেক্টরকে। কোনও সাড়া না পেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর গণমিছিলের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়। শহরের স্থানে স্থানে চলে পথসভা। কোনও নাগরিকদের কোনও কথাই কর্ণপাত করতে চায়নি পুরসভা। ফলে আইনের দ্বারস্থ হন মঞ্চের পক্ষে ধ্রুবকুমার সাহা, বাসুদেব শর্মা. কিশোর ভট্টাচার্য, কমল চক্রবর্তী, সীমান্ত ভট্টাচার্য, হিল্লোল ভট্টাচার্য, সিহাবুদ্দিন আহমেদ, অরিন্দম দেব, প্রণব দত্ত, বুদ্ধদেব দাস (বর্তমানে প্রয়াত), রঞ্জিত চৌধুরী, রামেন্দ্র ভট্টাচার্য, অভিজিত দাম ও সঞ্জীব রায়। মামলায় বিবাদী করা হয় মুখ্যসচিব, পুর প্রশাসন দফতরের ডিরেক্টর, রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার, কাছাড়ের জেলাশাসক এবং পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে।

যাঁরা তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখনও পুরকর জমা করছেন না, তাঁদের সাধুবাদ জানিয়ে বাসুদেব শর্মা, মহীতোষ পাল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির জন্য তাঁদের তরফে সব ধরনের চেষ্টা করে চলেছেন। প্রতিটি তারিখে বাদীপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে একাধিক ব্যক্তি গুয়াহাটিতে গিয়ে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

জমা জল ও কৃত্রিম বন্যা নিয়েও মঞ্চের পক্ষে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ সহ জমা করা হয়েছে জলসম্পদ দফতর, পুরসভা এবং এনএইচআইডিসিএলের কাছে। এ ক্ষেত্রেও কারও কোনও হেলদোল নেই অভিযোগ করেন সঞ্জীব রায়, রঞ্জিত চৌধুরীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker