Barak UpdatesHappeningsBreaking News
প্রতিষ্ঠা দিবসে রক্তদানের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাল ব্লাড ডোনার্স ফোরাম

ওয়ে টু বরাক, ২১ মে : বরাকভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে ১৯ মে দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যসূচির আয়োজন করা হয়। শিলচর প্রেমতলার গোলদিঘি মলের সামনে এ দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ফোরামের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মনোজ কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক আশু পাল, কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি দেবব্রত পাল । উপস্থিত ছিলেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি, কাছাড় জেলা কমিটি এবং মহিলা শাখার বিভিন্ন পদাধিকারীরা। এরপর সকাল ১১টায় গোলদিঘি মলে (বাতায়নের পাশে) অস্থায়ী শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর সূচনা করেন ডাঃ কুমারকান্তি দাস (লক্ষণ দাস)। একে একে ব্লাড ডোনার্স ফোরাম এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয় স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির। রক্ত সংগ্রহে ছিল কাছাড় ক্যানসার হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার। ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি দেবব্রত পালের পৌরোহিত্যে উদ্বোধনী সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মুখ্য উপদেষ্টা ডাঃ কুমারকান্তি দাস, ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মনোজ কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক আশু পাল, সহ-সভাপতি জয় বরদিয়া, রূপম ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, সহ সভাপতি রাজকুমার পাল, গোলদিঘি মিউনিসিপাল মল কর্তৃপক্ষের পক্ষে কাজল কর্মকার, কাছাড় ক্যানসার হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারের ইনচার্জ মেডিকেল অফিসার ডাঃ শবনম বাহার বড়ভূঁইয়া, যুগশঙ্খের ডিরেক্টর এডমিনিস্ট্রেশন নীলাক্ষ চৌধুরী, লায়ন্স ক্লাবের বরিষ্ঠ সদস্য লায়ন সুভাষ চৌধুরী, বরাক ব্লাড ব্যাংকের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ বণিক, ফোরামের মহিলা শাখার সভানেত্রী সিক্তা পাল, ইন্ডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুমন্ত দাস, নেক্সা শোরুমের ম্যানেজার বিপ্লব দে সহ আরও অনেকে। উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী রূপসা কর্মকার এবং উনিশের শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী মৌটুসী বিশ্বাস। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি নবেন্দু নাথ।

এ দিন বিভিন্ন বক্তারা স্বেচ্ছায় রক্তদান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। বলেন, সবাই সুস্থ থাকলে একটি সুন্দর পরিবেশ গঠিত হয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ কাজ। কেননা, রক্তদানের মাধ্যমেই মৃত্যু পথযাত্রী অন্য মানুষের জীবন বাঁচানো যেতে পারে। কেউ যদি। যদি স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, তাহলে এতে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ বা মুমূর্ষু রোগীর জীবন যেমন বাঁচবে, তেমনি রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে গড়ে উঠবে রক্তের বন্ধন। স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে শুধু অন্যের জীবন বাঁচানো নয়, বরং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়। এ দিন বক্তারা আরও বলেন, সুস্থ-সবল মানুষ তিন মাস অন্তর (মহিলাদের ক্ষেত্রে চার মাস) রক্তদান করতে পারেন। এতে শারীরিক কোনও ক্ষতি হয় না। বরাক উপত্যকায় রক্তের চাহিদা মেটাতে প্রত্যেককে এগিয়ে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শিবিরে পাঁচজন মহিলা সহ মোট ৫৪ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। এদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবার রক্তদান করেন। যুগশঙ্খ পরিবারের পক্ষ থেকে এদিন রক্তদান করেন ডিরেক্টর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নীলাক্ষ চৌধুরী সহ বিজু চন্দ, শান্তনু দাস, রাজু নাথ, চিন্ময় নাথ, রাজা দেব, নিখিল শব্দকর, রাজীব দেব, রাজু দেব, স্বপন নাথ। এরমধ্যে নিখিল শব্দকর প্রথমবার রক্তদান করেন। এ দিন অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক রাহুল দেব, সংবাদ কর্মী বাপ্পা দাস, ইয়াসির সঞ্জীব রায় সহ দশজন, জয়া ফাউন্ডেশনের পাঁচজন রক্তদান করেন। এ দিন কাছাড় ক্যানসার হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ ডা. শবনম বাহার বড়ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ দিলওয়াল হোসেনও। তাঁদের সহযোগিতা করেন টেকনিশিয়ান সুপারভাইজার জহিরুল ইসলাম, টেকনিশিয়ান সাদিক আহমেদ, আয়ান চাকমা, অঞ্জলি সিনহা, অনুরাধা দেব, শান্ত সিং প্রমুখ।

শিবির চলাকালীন ভারত ভারতী সংস্থার পক্ষ থেকে উপস্থিত হন সভাপতি চম্পক দে, সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য। সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে বরাক ভ্যালি ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংস্থার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চম্পক দে। শিবির চলাকালীন প্রত্যেক রক্তদাতাকে ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে শংসাপত্র, মেডেল এবং কাছাড় ক্যানসার হাসপাতাল ব্লাড ব্যাংকের পক্ষ থেকে পৃথক শংসাপত্র প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ফোরামের কাছাড় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সব্যসাচী রুদ্রগুপ্ত।এদিন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি, কাছাড় জেলা কমিটি এবং মহিলা শাখার বিভিন্ন পদাধিকারীরা উপস্থিত থেকে রক্তদাতাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন এবং শিবির পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন।



