Barak UpdatesHappeningsBreaking News
নেতাজি মূর্তি উন্মোচনের দিনে বাঙালিদের ভূমিপুত্র বলে ঘোষণা করুন, হিমন্তকে সুস্মিতা

ওয়েটুবরাক, ১৭ জুলাইঃ তিন প্রজন্ম ধরে অসমে বসবাসকারী বাঙালিদের ভূমিপুত্র বলে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব। নেতাজি মূর্তি উন্মোচনের সময় মুখ্যমন্ত্রী যখন শিলচরে আসবেন, তখনই ওই ঘোষণা করতে অনুরোধ জানান। হিমন্তকে চরম বাঙালিবিরোধী বলে দেগে দিয়ে সুস্মিতা বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ জানান, “পারলে তাঁর কাছ থেকে এই দাবি আদায় করুন।”
উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্য দাবি করে বরাক উপত্যকায় যারা মিছিল করছেন, তাঁদের উদ্দেশে সুস্মিতা দেবের জিজ্ঞাস্য, আপনারা কি ভূমিপুত্র? মুখ্যমন্ত্রী কি আপনাদের ভূমিপুত্র বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন?
সুস্মিতা অসমে বাঙালির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৮৭৪ সালে অসম সৃষ্টির সময়েই সিলেট ও গোয়ালপাড়াকে বাংলা থেকে কেটে নিয়ে অসমে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে অসম সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে বাঙালিরা এখানে বসবাস করছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা চরম বাঙালি বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে সু্স্মিতা বলেন, অসমিয়া ভোট আর তাঁর পাশে নেই। এ কথা বুঝতে পেরেই তিনি এমন অবস্থান নিয়েছেন। বাঙালিদের যন্ত্রণাবিদ্ধ করে তিনি অসমিয়াদের মনজয়ের চেষ্টা করছেন।
তাঁর কথায়, বিধানসভার ভোট এগিয়ে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দিশেহারা অবস্থায়। এখন এক কথা বলছেন তো পরক্ষণেই এর বিপরীত কথা আউড়াচ্ছেন। উচ্ছেদ, এনআরসি, আদমসুমারি সবেতেই তাঁর স্ববিরোধী বক্তব্য নজরে পড়ে।”
বৃহস্পতিবার শিলচরে নিজের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে চাঁছাছোলা ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব হিমন্তের স্ববিরোধী মন্তব্যের নানা উদাহরণ তুলে ধরেন। সুস্মিতা বলেন, একদিকে তিনি আদমসুমারিতে বাঙালিরা মাতৃভাষা বাংলা না লিখলে তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে মামলায় অভিযুক্ত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন। আবার একই জায়গায় দাঁড়িয়ে পরের মুহূর্তেই তিনি বলছেন, মাতৃভাষা বাংলা লিখলে বাংলাদেশি খোঁজা সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, এনআরসি-কে এখনও মান্যতা দেয়নি তাঁর সরকার। এখন ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেরিম রিভিশন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখছে, এনআরসিকেও এ ক্ষেত্রে বিচার্য করা হোক। এরাই আবার পুশব্যাকের সময় এনআরসিকে ধর্তব্যে আনছে না।
সুস্মিতার কথায়, এমন ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়। ডিলিমিটেশন করেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নব্বইটি আসন অসমিয়া ভূমিপুত্রদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে বলে শুনিয়েছিলেন। এখন তিনিই বলছেন, এক জায়গার মানুষ অন্য জায়গায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে জনবিন্যাসে বদল ঘটিয়ে দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন, আদানি-আম্বানিকে জমি দেওয়ার জন্য সরকারি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, নাকি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের জন্য খাস-পাট্টা নির্বিশেষে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বিদেশি বিতাড়নের জন্য হলে তাদের নথিপত্র দেখা হচ্ছে কি? এ ছাড়া, এখনও জনবিন্যাসে বদল ঘটতে থাকলে ডিলিমিটেশনে কী করলেন হিমন্ত, জানতে চান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।


