NE UpdatesHappeningsBreaking News

ত্রিপুরা এডিসি: উত্তর পূর্বের জনজাতি নেতাদের এক ছাতার তলায় আনার প্রয়াসে নয়া মাত্রা

ওয়েটুবরাক, ১৭ এপ্রিল: রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই শরিকেই নির্বাচনী লড়াই হল ত্রিপুরা পার্বত্য এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) নির্বাচনে। পরিষদ নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গেই তাদের লড়াই হয়।

৩০ সদস্যের এডিসিতে ২৮ আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি দুটি আসন‌ রাজ্য সরকার মনোনীত ।

 মহারাজা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বাধীন তিপরা মথা পার্টি (টিএমপি) মোট ২৪টি আসন দখল করেছে। ২০২১-র ভোট থেকে তারা ৬টি আসন বেশি পেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপিকে এবার মাত্র চারটি আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এর মধ্যে একটি আসন একেবারে শেষমুহূর্তে কোনক্রমে জিতেছে। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস এবারও একটি আসনও জিততে পারেনি। শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (আইপিএফটি)-কেও।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এডিসিতে টানা দুইবার জয়ের ফলে টিএমপি ত্রিপুরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে নিয়েছে। পাশাপাশি উত্তর পূর্বের জনজাতি রাজনীতিতেও এই ফলাফলে বিশেষ প্রভাব পড়বে। তবে অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে জনজাতি ভুক্ত মানুষ পদ্ম প্রতীককেই অধিকতর পছন্দ করেন বলে বিজেপি নেতাদের যে ধারণা ছিল, ত্রিপুরা এডিসির ভোট তা যে কতটা ভ্রান্ত, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই প্রদ্যোৎ বিক্রম উত্তর পূর্বের জনজাতি নেতৃত্বকে এক ছাতার তলায় আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৪-৪ ফলাফল সেই উদ্যমে যে নতুন করে সার-জল ঢালতে সক্ষম হবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চর্চা নয়া মাত্রা লাভ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা তিপরা মথা পার্টিকে এই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। সেইসঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সাহসিকতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাঁরা। পরিষদ গঠন থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও এই ফলাফল আমাদের বেশ কিছু শিক্ষা দিয়েছে। আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে লড়াই করতে হবে আমাদের।” ফলাফল চূড়ান্ত ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জনতার রায় বিজেপি মাথা পেতে নিয়েছে।

তিপরা মথা পার্টির সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ বিক্রম দলীয় কর্মীদের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিদ্বেষী মনোভাবের পরাজয় ঘটেছে, ভালবাসার জয় হয়েছে। এখন তোমরা যদি হিংসায় প্রশ্রয় না দাও, তাহলেই হবে প্রকৃত বিজয়। মনে রেখো, তিপরা মথা, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম আমরা সবাই ভাই ভাই। আমরা সবাই তিপরাসা ( ত্রিপুরার জনজাতি জনগোষ্ঠীর)। আমরা নিজেদের মধ্যে মারপিটে জড়াব না। “

বিজেপি নেতা, মন্ত্রী রতনলাল নাথের মন্তব্য, আগেই বলেছিলাম, “উন্নয়নের নিরিখে ভোট হলে আমাদের হারানোর ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু আবেগের ভোট হলে হিসাব‌ মেলানো মুশকিল। আমরা তাই হিসাব মেলাতে পারছি না।”

 

ত্রিপুরার মোট ১০,৪৯১ বর্গকিলোমিটার ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিষদের আওতাভুক্ত।

১৯৮৫ সালের জুন মাসে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে এই পরিষদ গঠিত হয়।

গত ১২ এপ্রিল ৯,৬২,৬৯৭ জন যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৮৩.৫২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। শুক্রবার কঠোর তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাজ্যের আটটি জেলাজুড়ে এই নির্বাচনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker