NE UpdatesHappeningsBreaking News
আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে হিমন্ত

ওয়েটুবরাক, ২৫ জুন: মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রদূত আব্দুল নাসির আলশালির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন । তাঁরা আরব এবং অসমের মধ্যে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, উদ্ভাবন, লজিস্টিকস ও সংযোগ এবং পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত আলশালি অসমে সরকারি সফরে এসেছেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত আলশালি বলেন, “অসম উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের জন্য অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাগুলি কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুহূর্তটি আমার জন্য আনন্দদায়ক ছিল। ইউএই এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং এর উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।”
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আজ লোকসেবা ভবনে ইউএই-এর রাষ্ট্রদূত আব্দুল নাসির আলশালিকে আতিথ্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। ইউএই অসমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সংযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহী। আমরা উত্তর-পূর্ব ভারত কীভাবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।”
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল ভারতের যোগীঘোপা মাল্টিমডেল লজিস্টিকস পার্কের উন্নয়ন। এই প্রকল্পটি অসমের মাধ্যমে ইউএই, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা যোগীঘোপা পার্কের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এটি লজিস্টিকস, পর্যটন এবং শক্তি খাতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
যোগীঘোপা মাল্টিমডেল লজিস্টিকস পার্কটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত কার্গো ট্র্যাকিং এবং স্মার্ট ওয়্যারহাউসিং সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছে।
বৈঠকে ইউএই-ভারত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অসমের জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, টেক্সটাইল, স্বাস্থ্য, হস্তশিল্প ও হস্ততাঁতের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য অগ্রাধিকার প্রদান করে।
উভয় পক্ষ ২০৩০ সালের মধ্যে তেল ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী।
রাষ্ট্রদূত আলশালি অসমের হস্তশিল্প ও হ্যান্ডলুম শিল্পের প্রশংসা করেন এবং এই খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অসমের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে অসমের অনেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।


