India & World UpdatesHappeningsBreaking News
১৭ বছরে ভোট চাইলেন ইউনূস, বিএনপির বক্রোক্তি

ওয়েটুবরাক, ২৯ ডিসেম্বর : “বাংলাদেশে ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত শুক্রবার বলেছেন, “তরুণরা সংখ্যায় বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামত নেওয়ার দরকার আমি মনে করি ।”
প্রধান উপদেষ্টার এ প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার এমন পরামর্শ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ নাকি ১৮ হবে তা নির্ধারণের কাজ নির্বাচন কমিশনের।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ”এখন তাহলে আবার নতুন করে ভোটার তালিকা করতে হবে। আপনি প্রধান উপদেষ্টা, প্রথমেই বলে দিচ্ছেন, ভোটারের বয়স ১৭ হলে ভালো হয়। আপনি যখন বলছেন, তখন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এটা ইলেকশন কমিশনের কাজ, তাদের ওপর ছেড়ে দিন। ১৮ বছর তো আছে, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। যদি কমাতে চান, সেটা ইলেকশন কমিশন প্রস্তাব করুক। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলেন। এভাবে না বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টা আনা উচিত ছিল। তাহলে কোনও বিতর্কের সৃষ্টি হতো না।”
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যের দরুন মানুষের মনে ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে যে, এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।
তাঁর কথায়, ”সংস্কার কোনও নতুন ধারণা নয়, কেউ যদি দাবি করে আমরা সংস্কার দফা নিয়ে আসছি, এটি ভুল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেজন্য তো নির্বাচন বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না।। দিনের পর দিন একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ চালাতে দিতে পারি না।”
অন্যদিকে ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন- এই তিন লক্ষ্যের কোনওটিকে ছাড়া কোনোটি সফল হতে পারবে না বলে গতকাল রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সংলাপ-২০২৪ এর উদ্বোধনী ভাষণে বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, “ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। পাশাপাশি আমরা ভুলতে পারি না যে, আমাদের ছাত্র-জনতা অটুট সাহসে শিশুহত্যাকারী ও পৈশাচিক ঘাতকদের মোকাবিলা করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”
সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলতে থাকবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ মূলত নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু সংস্কারের কাজে সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা ভোটার তারা তো অংশগ্রহণ করবেনই, তার সঙ্গে যারা ভবিষ্যতে ভোটার হবেন তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করুন।”
সংস্কার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ”আমরা বিশ্বাস করি সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।”
”শুধু কথা বলেই কাজ হবে না, কাজ করে দেখাতে হবে। সংস্কার তো সবাই চায়, সেই সাথে শান্তি চাই মানুষ, বাঁচতে চায়”, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।



