Barak UpdatesHappeningsBreaking News

প্রদর্শনী-প্রতিযোগিতা-শোভাযাত্রায় রামকুমার নন্দী পাঠশালার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী

ওয়ে টু বরাক, ২ মার্চ : রামকুমার নন্দী পাঠশালার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীর প্রথম দিন অর্থাৎ শনিবার চিত্র প্রদর্শনী, হস্তশিল্প প্রদর্শনী এবং চিত্রাঙ্কঁন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন সকাল ১১টায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গণেশ নন্দী, অধ্যাপক গৌতম দত্ত, দ্য গ্রুপ অব কালার্স।-এর সম্পাদক তথা চিত্রশিল্পী গৌরশঙ্কর নাথ। উদ্বোধনী পর্বে ছিলেন স্কুলের প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীর সভাপতি বাবুল হোড়, কার্যকরী সভাপতি শিবব্রত দত্ত, পার্থরঞ্জন চক্রবর্তী, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তথা প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীর সম্পাদক নবনীতা নন্দী। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রবিবার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীর পতাকা উত্তোলন করে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শুরুতে বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। তারপর ড. নন্দী অনুষ্ঠান সম্পর্কে বক্তব্যে বলেন, এই পাঠশালা দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পা রাখল। অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে স্কুলটি নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছে। স্কুলের প্রাক্তনীরা যেভাবে অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন, তাদের অবদান ছাড়া কোনও অনুষ্ঠানই করা সম্ভব নয়। অধ্যাপক গৌতম দত্ত বলেন, এই স্কুলের প্রচার প্রসারে স্কুলের পরিচালনা কমিটির এবং শিক্ষক-শিক্ষিকরা যেভাবে ভূমিকা নিয়েছেন তাতে অনুষ্ঠান সুন্দর সাফল্যমন্ডিত হয়ে উঠবে।

সভাপতি বাবলু হোড় বলেন, আজকে এক পা এক পা করে ৭৫ বছর অতিক্রম করল। এই স্কুলের অনেক প্রাক্তনী দেশ-বিদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কার্যকরী সভাপতি শিবব্রত দত্ত বলেন, আনন্দ পরিষদ এর কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা এই স্কুলের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। তারপরে একে একে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দ্বারা বিভিন্নভাবে এই স্কুলের সহযোগিতায় জড়িয়ে আছে। পার্থরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, গুটিগুটি পা দিয়ে ৭৫ বছরে অতিক্রম করা চারটি কথা নয়, আমি নিজেই স্কুলের পাঠশালাতে পড়েছি এবং অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। কোনও অনুষ্ঠান হলে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার চেষ্টা করি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী, করুনাসিন্ধু দেব চৌধুরী, সুজিত চক্রবর্তী অমিতাভ দাশ, অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ।

এ দিন সকাল ১০টা থেকে দুটি বিভাগে শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজের সৃজনশীল প্রতিভাকে ক্যানভাসে তুলে ধরে।  চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ক বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে সুদীপ দাস, দ্বিতীয় বিশাল দাস ও তৃতীয় মোহিত দাস। ‘খ’ বিভাগে প্রথম দিয়া দাস, দ্বিতীয় নবনীতা বৈষ্ণব ও তৃতীয় অনামিকা দাস। এই দুটি বিভাগের বিচারক ছিলেন গৌরশঙ্কর নাথ।

এ দিন স্কুলের সামনের রাস্তায় পাঁচটি আলপনা করা হয়। বিশাল দাসের নেতৃত্বে এই পাঁচটি আলপনা করেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও প্রাক্তনীরা । এতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিয় ধর, নবনীতা নন্দী, পূরবী সূর, পাঞ্চালি সেনগুপ্ত, অনুরাধা মজুমদার, দীপমালা দাস, কাবেরী কর, শর্মিষ্ঠা দাস, স্বদেশ চন্দ্র রায়,পামি দেবনাথ, সুরভী রায় চন্দনা দেব, সুপ্তী দে প্রমুখ। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, স্বদেশ চন্দ্র রায়। অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নবনীতা নন্দী জানান, আগামী ৩০ মার্চ শিলচার রাজীব ভবনে স্মরণিকা প্রকাশ এবং নানা ধরনের অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker