India & World UpdatesHappeningsBreaking NewsFeature Story
মোদির কথাই অনুরণিত শ্রীশ্রী রবিশঙ্করের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে

উত্তমকুমার সাহা ও পান্নালাল ভট্টাচার্য
বেঙ্গালুরু, ১১ মে : বেঙ্গালুরুতে আর্ট অব লিভিঙের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে ধ্যান মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে রবিবার উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সোমবার বিকেলে কেম্পেগৌড়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নেমেই বুঝতে পারলাম, এক ঐতিহাসিক সমাবেশের সাক্ষী থাকা থেকে বঞ্চিত হলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ধ্যান মন্দিরের উদ্বোধন করলেন, পাশে ছিলেন শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর। আর্ট অব লিভিং আন্দোলনের ৪৫ বছর পূর্তি এবং এর প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্করের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের ওই বিশেষ মুহূর্তটিকে সামনে থেকে দেখার জন্য বিশাল সমাবেশ ঘটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, বিশ্বের বহু দেশ থেকে শ্রী শ্রী অনুরাগীরা বেঙ্গালুরুর এই আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। বিমান বন্দর থেকে গাড়িতে আসতে আসতে চালক শ্রেয়স দেখাচ্ছিলেন হেঁটে মানুষ যাতে অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য কত দূরে গাড়ি-মোটর সাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখনও দক্ষিণের মানুষ হিন্দির চেয়ে ভাঙা ইংরেজিতেই যে কথা বলতে ভালোবাসেন, শ্রেয়সকে দেখে আবারও উপলব্ধি হলো। আমাদের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক নেহার অবশ্য হিন্দি-ইংরেজি একটা হলেই হলো। কারণ সে যে মহারাষ্ট্রের তরুণী। নেহাই বিশাল আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের গেট থেকে স্বাগত জানিয়ে আমাদের নিয়ে এলেন ‘আশ্রম যোগ সাধনা’য়। এটি আসলে বেশ কয়েকটি অতিথিশালার একটি। নেহা সহ অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, গত ৪৫ বছরে আর্ট অব লিভিং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবক-নির্ভর মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা ১৮২টি দেশে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা যোগ, ধ্যান, শিক্ষা এবং সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা, সংঘাত নিরসন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উন্নয়নের প্রচার করে আসছে।
তাঁদের কথায়, এই আন্দোলনটি বিশ্বজুড়ে ১০ লক্ষেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক এবং ৪০ হাজার প্রশিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচি ছাত্রছাত্রী, স্বাস্থ্যকর্মী, কারাবন্দি, সরকারি আধিকারিক এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা করে । ৭৫টিরও বেশি নদী পুনরুজ্জীবন, ১০ কোটির বেশি বৃক্ষরোপণ এবং ১৭৪ বিলিয়ন লিটার জল সংরক্ষণের মতো বৃহৎ পরিবেশগত উদ্যোগের কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন।
শ্রী শ্রী অনুরাগীরা জানিয়েছেন, “চাপমুক্ত ও হিংসামুক্ত সমাজ” গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, যেখানে শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সামাজিক কর্মসূচি ও বিশ্ব সহযোগিতার সমন্বয় ঘটবে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিও রাষ্ট্রগঠনে আধ্যাত্মিকতা ও মানসিক সুস্থতার ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলবে এমন যুবসমাজ, যারা মানসিকভাবে শান্ত, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল এবং সমাজের প্রতি সংবেদনশীল। এই যাত্রায় আধ্যাত্মিক সুস্থতা, মানসিক স্বাস্থ্য, যোগ এবং ধ্যানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর্ট অব লিভিং-এর মতো সংস্থা মানুষের মধ্যে সংযোগ, আত্মীয়তা এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে। পাশাপাশি মানুষকে নিজেদের সংস্কৃতিকে জানার ও বোঝার সুযোগ দেয়।”
রাষ্ট্রগঠনে জনসাধারণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রাজনীতি ও সরকারের চেয়ে সমাজ অধিক শক্তিশালী। কোনও সরকার তখনই সফল হতে পারে, যখন সমাজ সক্রিয়ভাবে জাতি গঠনে অংশ নেয়।”
সংস্থার অবদানের প্রশংসা করে মোদি বলে গেলেন, “আর্ট অব লিভিং সংস্থা সর্বদাই সমাজের শক্তিকে সমর্থন করে—এটা দেখে অত্যন্ত আনন্দ হয়।”
ভারতের দ্রুত অগ্রগতি এবং যুবসমাজের ভূমিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ডিজিটাল বিপ্লব ভারতকে ডিজিটাল পেমেন্টে বিশ্বনেতা করে তুলেছে। স্টার্ট-আপের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইকোসিস্টেম। আমাদের যুবকেরা এখন মহাকাশে নিজেদের উপগ্রহ পাঠাচ্ছে। এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আর্ট অব লিভিং যুবকদের সাহায্য করছে।”
দ্য আর্ট অব লিভিং-এর প্রারম্ভিক দিনের কথা স্মরণ করে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর জানান, সংস্থার ভিত্তিই ছিল বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষের মিলনের প্রতীক। প্রথম ট্রাস্টিদের মধ্যে ছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি পিএন ভাগবতী এবং ভিআর কৃষ্ণ আয়ার।
আসার পর থেকে এই কথাগুলোই শুনছি আর্ট অব লিভিঙের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের এদিকে-ওদিকে।
কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে না এসে শ্রীশ্রী রবিশঙ্করের ৭০-তম জন্মদিনটাকে বেছে নেওয়া কি সত্যিই খুব ভুল হয়েছে? হতাশাভরা এই প্রশ্ন শুনে নেহা এক মুহুর্ত সময় না নিয়ে জবাব দিলেন, ১৩ মে গুরুদেবের জন্মদিনেই এর উত্তর পেয়ে যাবেন। সেদিন আপনার মনখারাপটাও কেটে যাবে।



