Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শারদীয় উৎসবে শব্দদূষণ রোধে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আবেদন
ডিজে নয়, ঢাক-শঙ্খ !

ওয়েটুবরাক, ৪ সেপ্টেম্বর: আসন্ন দুর্গাপূজা ও কালীপূজাকে কেন্দ্র করে সনাতনী ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জেলা প্রশাসনের নিকট এক স্মারকপত্র পেশ করে। স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চস্বরে ডিজের ব্যবহার কেবলমাত্র ভয়াবহ শব্দদূষণ সৃষ্টি করছে না, বরং আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি এবং পূজার আধ্যাত্মিক আবহকেও ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পরিষদের নেতৃত্ব যুক্তি দিয়ে বলেন— ঢাক, কাঁসর, শঙ্খ, উলুধ্বনি প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র সনাতনী পূজার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত এবং এগুলোই প্রকৃত ভক্তিভাব ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর বিপরীতে উচ্চস্বরে ডিজে সংগীত কেবল পরিবেশ দূষণ ঘটায় না, মানুষকে আধ্যাত্মিক ধ্যান-ভাবনা থেকে বিচ্যুত করে এক প্রকার কৃত্রিম বিনোদনকেন্দ্রিক সংস্কৃতি তৈরি করছে।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবীণ, শিশু, রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ডিজে বাদ্যের উচ্চ শব্দে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, উৎসবের আনন্দ তখনই অর্থবহ, যখন তা সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ শান্তি ও ভক্তিভরে উপভোগ করতে পারেন। অন্যথায় তা নিছক শব্দসন্ত্রাসে পরিণত হয়।
স্মারকপত্রে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিকট আবেদন রাখা হয়েছে, আসন্ন উৎসবগুলিতে উচ্চস্বরে ডিজে বাজনা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক এবং রাত ১১টার পর লাউডস্পিকার ব্যবহারে আইনগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হোক। একই সঙ্গে তাঁরা পুজো কমিটিগুলির প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছেন—সনাতনী ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষার্থে যেন ডিজে বাদ্য ব্যবহার না করা হয়। পরিষদের মতে, “উৎসবকে আমাদের নিজেদের হাতেই পবিত্র ও সংস্কৃতিনিষ্ঠ রাখা প্রয়োজন।”
বৃহস্পতিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তের বিধি প্রকোষ্ঠ কাছাড় জেলাশাসকের নিকট এই স্মারকপত্র জমা দেয়। বিধি প্রকোষ্ঠের প্রান্ত সংযোজক দিলীপ কুমার দাশ, সহ-সংযোজক সৌমেন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী রঞ্জু দেব, ধর্মানন্দ দেব, জ্যোতির্ময় নাথ ও সন্দীপন নাথ প্রমুখ তাঁদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ডিজে বাদ্যের বেপরোয়া ব্যবহার ২০০০ সালের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধির লঙ্ঘন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর পরিপন্থী এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ২৭০ ও ২৯২ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরিষদের আশা, প্রশাসন ও পুজো কমিটি উভয়েরই সহযোগিতায় আসন্ন শারদোৎসব শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব এবং ঐতিহ্যসম্মতভাবে পালিত হবে।



