Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভুটান জেটের কনট্রেইল দেখে চাঞ্চল্য শিলচরে !

ওয়েটুবরাক, ২২ ডিসেম্বর: আচমকা সোমবার দুপুরে শিলচরের আকাশে বিশাল ধোঁয়ার এক সাদা রেখা দেখা যায়৷ কী যেন অতি দ্রুত বেগে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলেছে! একে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়৷
বিশেষ করে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলা সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষিতে এ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। অনেকে অনুমান করছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে বাংলাদেশ ৷ কোথায় গিয়ে পড়বে, এ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন তাঁরা৷
একাংশ আবার এমন অনুমান উড়িয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের পক্ষে এই দুঃসাহস একেবারে অসম্ভব৷ বরং ভারত কোনও জায়গা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে পারে৷ উত্তর-পূর্বের উপর দিয়ে তা এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের দিকে৷ এর গতিবিধি খালি চোখে পর্যবেক্ষণ করে দুই-একজন অভিজ্ঞের মতো শোনাচ্ছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মিজোরাম পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে ৷
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এসব একেবারেই ভিত্তিহীন কথা, অযৌক্তিক ভাবনা৷ ওই যে সাদা রেখা দেখা গিয়েছিল, সেটি আসলে এক রেখা-আকৃতির মেঘ৷ ইংরেজিতে বলে কন্ডেনসেশন ট্রেইল বা কনট্রেইল৷ সুউচ্চ আকাশে উড়ন্ত বিমানের কারণে এর সৃষ্টি হয়। সোমবার দুপুরে ভুটান এয়ারলাইনসের একটি জেট বিমান ভুটানের পেরো বিমানবন্দর থেকে উড়ে তখন হঙকঙের উদ্দেশে যাচ্ছিল৷ সে সময় এটি ৩৯,০২৫ ফুট উচ্চতায় চলছিল৷
সাধারণত বিমান যখন ৩০,০০০–৪০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ে, তখন এই কনট্রেইল দেখা যায়। এগুলো মূলত বরফের স্ফটিক দিয়ে গঠিত৷ ইঞ্জিন থেকে নির্গত জলীয় বাষ্প ঠান্ডা ও আর্দ্র বাতাসে জমে বরফে পরিণত হলে এই কনট্রেইল তৈরি হয়।
সূত্রটি জানিয়েছেন, জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি পোড়ালে গরম ধোঁয়া নির্গত হয়৷ এর মধ্যে থাকে এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র কণা এবং জলীয় বাষ্প, যা জ্বালানির হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি হয়। উচ্চ আকাশে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ৪০° সেলসিয়াসের নীচে থাকে, সেখানে এই জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে ওই কণাগুলোর চারপাশে জমে বরফে পরিণত হয়ে কনট্রেইল তৈরি করে। এটি অনেকটা ঠান্ডা দিনে নিঃশ্বাস ছাড়লে যেমন ধোঁয়ার মতো দেখা যায় ঠিক তেমনই, তবে তা অনেক বড় পরিসরে ঘটে, ওইটুকুই যা।



