India & World UpdatesHappeningsBreaking News
বিলে সম্মতি: সুপ্রিম কোর্টকে ১৪ দফা প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির
ওয়েটুবরাক, ১৬ মে : সুপ্রিম কোর্টকে ১৪ দফা প্রশ্ন করেছেন রাষ্ট্রপতি। যা দেশে বেনজির! এর ফলে রাষ্ট্রপতির প্রশ্নের উত্তর দিতে দেশের শীর্ষ আদালতকে গড়তে হবে সাংবিধানিক বেঞ্চ।
তামিলনাড়ু সরকার বনাম রাজ্যপালের আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর ১০টি বিল সেই রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবি আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করে স্ট্যালিন সরকার। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ওই বিলগুলি রাজ্যপাল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির সইয়ের জন্য। যদিও সেই বিল পাশ হতে দেরি হয়। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে তামিলনাড়ু সরকার। গত এপ্রিল মাসে এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যপালের আচরণকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। আদালতের তরফে বলা হয়, ‘এটা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া দরকার, কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও কাজ না করলে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে না।’ তারপরেই শীর্ষ আদালত রাষ্ট্রপতিকে তিন মাসের মধ্যে বিল সইয়ের পরামর্শ দেন। যাকে কেন্দ্র করে রণংদেহি মূর্তি ধারণ করেন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার। বারবার সুপ্রিম কোর্টকে আক্রমণ করতে থাকেন তিনি। পিছিয়ে থাকে না কেন্দ্রের শাসকদলের সাংসদ থেকে নেতারা। তাঁরাও ক্রমাগত দেশের শীর্ষ আদালতকে আক্রমণ করতে থাকেন। এবার খোদ রাষ্ট্রপতি, গোটা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে জবাব চেয়েছেন। যা সাংবিধানিক সঙ্কট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা!
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শীর্ষ আদালতের কাছে জানতে চেয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে বিল পাশের সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে? সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতাকে কি রাজ্যগুলি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে? কোনও রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে কি আদৌ বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারে? রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কি সুপ্রিম রায়ে খর্ব হচ্ছে না? সদ্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদে শপথ নিয়েছেন ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই। রাষ্ট্রপতি জবাব তলব করায় এবার তাঁকেই গড়তে হবে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। সেই বেঞ্চের পরামর্শ মেনে রাষ্ট্রপতির প্রশ্নের উত্তর দেবে সুপ্রিম কোর্ট। যা ভারতে নজিরবিহীন ঘটনা।



