Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শিক্ষার পাশাপাশি মেয়েদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে হবে, জাতীয় কন্যা দিবসে আহ্বান

ওয়েটুবরাক, ২৫ জানুয়ারি: মেয়েদেরকে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থকরী দিক দিয়েও স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এজন্য নিযুত ময়না ও সুকন্যা সমৃদ্ধির মতো সরকারি স্কিমের সুযোগ নিতে হবে। তাছাড়া কন্যাসন্তানদের স্বাস্থ্যের দিকটাও অতি জরুরি বিষয়।
শুক্রবার শিলচর গভঃ গার্লস এইচ এস স্কুলে জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কথাগুলো বললেন জেলার অতিরিক্ত আয়ুক্ত (স্বাস্থ্য) ড০ খালেদা সুলতানা আহমেদ। স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ও গভঃ গার্লস স্কুলের সহযোগিতায় আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে ড০ খালেদা উপস্থিত ছাত্রীদের উদ্দেশ্য বলেন, জীবনের লক্ষ্যকে সুপারি গাছ সম উচ্চতায় নয়, আকাশসীমায় রাখতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে একটা মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারবে। লক্ষ্যকে সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ছাত্রীদেরকে উদ্ধুদ্ধ করেন। ড০ খালেদা বলেন, কেবল উচ্চতর মাধ্যমিক পড়ে শেষ নয়, কমেও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শেষ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যক্ষা ব্রনিয়া দাস বলেন, আগেকার দিনে সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন ছিলেন কন্যাসন্তানরা। চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হতো। ক্রমে সে গণ্ডি পেরিয়ে এখন কন্যারা স্বাবলম্বী হতে পেরেছেন। এজন্য সমাজের এক বিরাট ভূমিকা রয়েছে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাণী রাসমণি, বেগম রোকেয়া প্রমুখ সমাজ সংস্কারকের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রাঞ্জল ভাষায় সভার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেন জেলার অতিরিক্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ ময়নুল ইসলাম বড়ভুইয়া। তিনি বলেন, মেয়েদের একটা সীমাবদ্ধতায় আটকে রাখার নীতি কিছু মানুষের তৈরি। অথচ ধর্মের মূল গ্রন্থে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। সেটা পড়াশোনাই হোক আর অন্য ক্ষেত্রেই হোক।
জেলার ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক ডাঃ শিবানন্দ রায় বলেন, কন্যাসন্তানদের বলীয়ান করতে সরকার ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড উদযাপন করছে। তাছাড়া বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও কার্যসূচি হাতে নিয়েছে সরকার এবং এসব কর্মসূচির মাধ্যমে এখন সমাজকে সচেতন করে তুলতে প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা এন এইচ এম-র কর্মসূচি প্রবন্ধক রাহুল ঘোষ, ডাঃ এস কে নন্দী সহ অন্যান্যরা। ধন্যবাদসুচক বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় ডেপুটি ডি এম ও বাপ্পা দেব। উপস্থিত ছিলেন হু-র আধিকারিক ডাঃ অর্কদেব কর, জেলা টিকাকরণ আধিকারিক ডাঃ আব্দুল সালাম শেখ, সার্ভিলেন্স ইন্সপেক্টর বিভাগের প্রণব কুমার দে প্রমুখ।

একই অনুষ্ঠানে স্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত খালেদা সুলতানা আহমেদ, গভঃ গার্লস এইচ এস স্কুলের অধ্যক্ষা ব্রনিয়া দাস, সংস্কৃতি জগতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব কল্যাণী দাম, মঞ্জুশ্রী চৌধুরী, মধুমিতা ভট্টাচার্য ও ড০ স্বরূপা ভট্টাচার্যকে আয়োজকদের পক্ষে সংবর্ধিত করা হয়।
গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নরসিংপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হেল্থ এডুকেটর সঞ্জীব দাস। উল্লেখ্য, এদিন জাতীয় কন্যা সন্তান দিবস উপলক্ষে জেলার অতিরিক্ত স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে এক শোভাযাত্রা বের হয়ে সড়ক পরিক্রমা করে।



