Barak UpdatesHappeningsBreaking News
শিলচরে এসেও দলবদল নিয়ে প্রশ্নের মুখে মিঠুন চক্রবর্তী
"হিমন্তের শিরদাঁড়া শক্ত, মমতা তোষণেই ব্যস্ত"

//উত্তমকুমার সাহা//
১৮ এপ্রিলঃ “আগের তৃণমূল এখন আর নেই। আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন আর নেই।” শিলচরে এসে এ ভাবেই দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করলেন মিঠুন চক্রবর্তী।
এর আগে ২০১৪ সালে শিলচরে এসেছিলেন তিনি। তখন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এক দশক পেরিয়ে আজ একই শহরে এসেছেন সংঘ নিয়ন্ত্রিত এবিভিপি-র ‘বরাক সাংস্কৃতিক মহোৎসবে।’ এখন তিনি বিজেপি নেতা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচক। এই দলবদল নিয়ে এ দিনও তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। মিঠুন বলেন, “তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কথা ভাবতেন, গরিবের পাশে দাঁড়াতেন। আজ চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে তাঁর তুলনা টেনে এও শোনান, “আপনারা ভাগ্যবান, এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছেন, যাঁর শিরদাড়া শক্ত। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে দেখুন, তিনি তোষণেই ব্যস্ত।”
মুর্শিদাবাদের অশান্তির জন্যও মমতাকে দোষেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ। তাঁর কথায়, “যাদের বাড়িঘর জ্বলল, তাঁদের সঙ্গে ওয়াকফ আইন সংশোধনের কী সম্পর্ক!” পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে একহাত নিয়ে মিঠুনের মন্তব্য, হিংসা দমন কি অনুপ্রবেশ ঠেকানো সবেতেই ব্যর্থ মমতার পুলিশ। এই অবস্থায় তিনি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন বলেই মনে করেন। তা না হলে অন্তত সেনার তত্ত্বাবধানে ভোট করানোর আর্জি জানান।
এবিভিপির অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে মিঠুন বলেন, “আপনাদের মধ্যে যে দেশপ্রেম ও চেতনাবোধ রয়েছে, একে জাগিয়ে রাখার জন্যই এখানে এসেছি।” সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যে তিনি সাফল্য পেয়েছেন, তা বারবার উল্লেখ করে তাঁর আহ্বান, “আমি ঘুমিয়েছি, কিন্তু আমার স্বপ্নকে ঘুমোতে দিইনি। আপনারাও স্বপ্নকে ঘুমোতে দেবেন।” তিনি ভাগ্যকেও সে জন্য পয়েন্ট দিতে চান। জানান, অভিনেতা হতে তিনি মুম্বই যাননি। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে ঠেলে ‘দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড’ পর্যন্ত পাইয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি শুনিয়ে রাখেন, “গাড়ি উপহার দিয়ে কেউ আপনাকে স্টিয়ারিংয়ে বসিয়ে দিলেই হবে না। নিরাপদে চালিয়ে যাওয়াটা আপনাকে শিখতে হবে।”
এবিভিপির অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েও তাঁর ভক্তকুল বারবার দলবদলের প্রসঙ্গ টানেন। শেষে জোড়াতালিতে তাঁর ব্যাখ্যা, “এত নাম করেছি, বিনিময়ে মানুষকে কিছু দিতে মন চায়। কিন্তু উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাই না। তাই এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াই।” তবে বিজেপিই তাঁর শেষ ঠিকানা, এমন কথা জোর দিয়ে বলতে পারলেন না ৭৪ বছর বয়সি অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।



