NE UpdatesAnalyticsBreaking News

কংগ্রেস আমলে বছরে ৪০-৪৫টি গণ্ডার শিকার, টানা তিন বছর শূন্য চোরাশিকার : হিমন্ত

গুয়াহাটি, ২৪ সেপ্টেম্বর : অসমে গণ্ডার সংরক্ষণে সাম্প্রতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন কংগ্রেস সরকারের আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারগুলির সময়ে অসমে বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি গণ্ডার শিকার করা হত। তাঁর দাবি, গত তিন বছর অসমে গণ্ডার চোরাশিকারের কোনও ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।

হিমন্ত বলেন, কংগ্রেসের পূর্ববর্তী সরকারগুলির সময়ে বছরে গড়ে ৪০-৪৫টি গণ্ডার নিহত হওয়ার সরকারি হিসাব ছিল। তাঁর দাবি, নথিভুক্ত না হওয়া আরও ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত ঘটনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন কোনও সরকারি পরিসংখ্যান তিনি উপস্থাপন করেননি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের পর অসমে গণ্ডার চোরাশিকারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৪-র পর অধিকাংশ বছর চোরাশিকারের সংখ্যা শূন্য অথবা এক-দুইয়ের মধ্যে ছিল এবং গত তিন বছরে তা শূন্যে নেমে এসেছে।

এই সাফল্যকে বড় ধরনের সংরক্ষণমূলক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গণ্ডার রক্ষায় বন দফতর, নিরাপত্তা সংস্থা, স্থানীয় মানুষ-সহ বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অসমের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

এ দিকে, অসম বন দফতরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৯৯৯ সালের হিসাব অনুযায়ী কাজিরঙা, মানস, ওরাং ও পবিতরা মিলিয়ে অসমে মোট গণ্ডারের সংখ্যা ছিল ১,৬৭২। ২০১৮ সালের হিসাবে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২,৬৫২-তে।

অসম সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও চোরাশিকারের সংখ্যা কমার প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে গণ্ডার চোরাশিকারের সংখ্যা ছিল ২৭ করে; ২০১৫ সালে ১৭, ২০১৬ সালে ১৮, ২০১৭ সালে ৬, ২০১৮ সালে ৭, ২০১৯ সালে ৩, ২০২০ সালে ২ এবং ২০২১ সালে ১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।

বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে ২২ সেপ্টেম্বরও অসমে গণ্ডার সংরক্ষণের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তর একশৃঙ্গ গণ্ডারের প্রায় ৮০ শতাংশ অসমে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি অসম সহ ভারতে গণ্ডার সংরক্ষণের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে অসমে গণ্ডার চোরাশিকার শূন্যে নামার দাবি এবং অন্যদিকে পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি রাজ্যের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ব্যবস্থার দিকেও নতুন করে নজর এনেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker