NE UpdatesHappeningsBreaking News
‘খাঁটি নকশাল’ চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চান হিমন্ত

ওয়েটুবরাক, ১৮ আগস্ট: চিদম্বরম শুধু মানসিক দিক দিয়েই নয়, তিনি একজন “খাঁটি নকশাল”। এই মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন মাওবাদী হামলায় কংগ্রেস নেতাদের মৃত্যু নিয়ে চিদম্বরমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিও তুলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
ঘটনার সূত্রপাত স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ থেকে। মোদি দেশবাসীকে সতর্ক করে ‘দিমাগি নকশাল’-দের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। এর জবাবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁচা দিয়ে লেখেন, “আমি দিমাগি নকশাল হতে পেরে গর্বিত।”
চিদম্বরমের সেই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে সোমবার হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি চিদম্বরম কেবল একজন দিমাগি নকশাল নন। তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি আদতেই একজন খাঁটি নকশাল! যাঁরা দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাঁরা প্রকৃত অর্থে খাঁটি নকশাল, কেবল মানসিকভাবে নকশাল নন।”
নকশাল ও মাওবাদী দমনে চিদম্বরমের আমলের ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে অসমের মুখ্যমন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ছত্তীসগড়ে যখন মাওবাদীদের ভয়াবহ হামলায় বিদ্যাচরণ শুক্লা সহ একাধিক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এই পি চিদম্বরমই।
হিমন্ত বলেন, “কংগ্রেস তখন ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নকশাল সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করতে বা নকশালদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে কখনও উদ্যোগী হয়নি। এখন যখন চিদম্বরম নিজেই প্রকাশ্যে বলছেন ‘আমি একজন দিমাগি নকশাল’, তখন তো বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন জেনেবুঝে কাজ করেননি, নাকি তাঁর নিষ্ক্রিয়তার পেছনে অন্য কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূয়সী প্রশংসা করেন হিমন্ত। তিনি জানান, বিজেপি সরকারের সময়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দেশের অন্যান্য অশান্ত এলাকাগুলিতে শান্তি ফিরে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে অসমের বড়োল্যান্ডের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ কখনও ভাবেনি যে আমাদের দেশ নকশালবাদ থেকে মুক্ত হতে পারবে। অসমে আমরাও কখনও ভাবিনি যে বড়োল্যান্ডের মতো অশান্ত অঞ্চল শান্ত হবে। কিংবা ১৫ আগস্ট বা ২৬ জানুয়ারিতে কোনও বোমা বিস্ফোরণ ছাড়া সুশৃঙ্খলভাবে উৎসব উদযাপন করা যাবে। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আমলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই শান্তি ফিরে আসাটাই এখন কংগ্রেসের সহ্য হচ্ছে না, ওদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলকে তোপ দেগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে হাত শিবির। তিনি বলেন, “ওরা সবাই পরিকল্পনা করছে দেশে নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে সেই বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে ২০২৯ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা যায়। সেই কারণেই একের পর এক এই ধরনের দেশবিরোধী ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করা হচ্ছে।”


