India & World UpdatesHappeningsBreaking News
২০ জুলাইর সংসদ অভিযানের পরই অনশন তুলে নিতে পারেন ওয়াংচুক
ওয়েটুবরাক, ১৮ জুলাই: আগামী ২০ জুলাই অনির্দিষ্টকালের অনশন তুলে নিতে পারেন মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, আজ শুক্রবার তিনি নিজেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াংচুক বলেন, তিনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে চান। আর ওই কর্মসূচি সফল হলেই অনশন প্রত্যাহারের কথা ভাবতে পারেন। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, যদি ওই কর্মসূচি সফল না হয়, তাহলে তিনি “ভূত হয়ে ফিরে আসবেন”।
শুক্রবার ওয়াংচুকের অনশন ২০তম দিনে পড়ে। এদিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াংচুক বলেন, “আমি যেকোনও উপায়ে ২০ জুলাই পর্যন্ত বেঁচে থাকব, যাতে আপনাদের সবার সঙ্গে সংসদ পর্যন্ত পদযাত্রা করতে পারি। আর যদি ২০ জুলাই আমাদের এই পদযাত্রা সফল না হয়, তাহলে আমি ভূত হয়ে ফিরে আসব।”
শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন ২৮তম দিনে পৌঁছেছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকেই আন্দোলনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওয়াংচুক সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি বাইরে থেকে দুর্বল, কিন্তু ভিতরে খুবই শক্তিশালী। আমি নিশ্চিত, আপনারা ভিতরে শক্তিশালী, বাইরে থেকেও শক্তিশালী। এই শক্তিটা আমাদের ২০ জুলাইয়ের জন্য দরকার, যখন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সংসদের দিকে পদযাত্রা করব। আমরা একসঙ্গে গণতন্ত্রের মন্দিরে গিয়ে আমাদের আবেদন জানাব।”
যদিও বহু সমর্থক ও বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়েছেন, ওয়াংচুক স্পষ্ট করে দেন যে, এই আন্দোলনের জন্য সহানুভূতির চেয়ে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই বেশি জরুরি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন,“আমাকে অনশন ভাঙতে বলার পরিবর্তে, ২০ জুলাই শান্তিপূর্ণ সংসদ অভিযানে আমার সঙ্গে যোগ দিন।”
ওয়াংচুকের মতে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে অনশন ভেঙে দিলে ভুল বার্তা যাবে। তাই তিনি একদিকে যেমন কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেও অনড় রয়েছেন।
তবে অনশনের তৃতীয় সপ্তাহে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুকের ওজন কমে ৫৬.৬৫ কেজি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন ৫০০ গ্রাম কমেছে এবং অনশন শুরুর পর থেকে মোট ৯ কেজিরও বেশি ওজন হ্রাস পেয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৬১ মিমি পারদ, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার, এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ। তিনি এখনও সচেতন ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ থাকলেও চিকিৎসকদের মতে, তাঁর সর্বক্ষণ চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি দিল্লি হাইকোর্টেও পৌঁছেছে। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে তাঁর স্বাস্থ্যের প্রতিদিন নজরদারি করতে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্র সরকারও জানিয়েছে, তারা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখবে।
আন্দোলনের শুরুতে এটি মূলত ছাত্রছাত্রীদের নেতৃত্বে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রচারাভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের “তেলাপোকা” ও “পরজীবী” বলে মন্তব্য করার পর, তখন বোস্টনে থাকা অভিজিৎ দীপকে প্রতিবাদস্বরূপ ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গড়ে তোলেন।
তবে বর্তমানে যন্তর মন্তরে আসা অনেকেই শুধু শিক্ষাব্যবস্থার কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে আসছেন না; তাঁরা ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়াতেও আসছেন, কারণ তাঁর অনশনই এই আন্দোলনের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে।


