Barak UpdatesHappeningsBreaking News
সাংবাদিক-ভাষা সেনানী সন্তোষ মজুমদারকে শ্রদ্ধা জানাল হাইলাকান্দি বার্তাজীবী সংঘ

ওয়ে টু বরাক, ৩১ আগস্ট : হাইলাকান্দি তথা বরাক উপত্যকার প্রথিতযশা সাংবাদিক, ভাষা সেনানী সন্তোষ মজুমদারকে গভীরভাবে স্মরণ করল হাইলাকান্দি জেলা বার্তাজীবী সংঘ। শনিবার বিকেলে হাইলাকান্দি শহরের কালীবাড়ি রোডের একটি উৎসব ভবনে আয়োজিত স্মরণসভায় উঠে এলো সন্তোষ মজুমদার সম্বন্ধে নানা অজানা কথা। সব বক্তা বলেন, সন্তোষ মজুমদার ছিলেন একজন প্রকৃত সাংবাদিক, সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি। ছিলেন নানা গুণের অধিকারী। তাঁর মতো একজন ব্যক্তির প্রয়াণ সত্যিকার অর্থেই বেদনাদায়ক। এ ক্ষতি সহজে পূরণের নয়। হাইলাকান্দি একজন পরম শ্রদ্ধার ব্যক্তিকে হারালো।
অসম বার্তাজীবী সংঘের হাইলাকান্দি জেলার সভাপতি অনিন্দ্য কুমার নাথের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলার প্রবীণ সাংবাদিক নীতীশ ভট্টাচার্য বলেন, সন্তোষ মজুমদার ১৯৬৯ সালে সাংবাদিক পেশায় যুক্ত হন। হাইলাকান্দি থেকে প্রকাশিত পূর্বায়ণ পত্রিকা দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা শুরু। এর এক বছর আগে তিনি (নীতীশ ভট্টাচার্য) সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েছিলেন। আশির দশকে সন্তোষ মজুমদার দৈনিক সোনার কাছাড় পত্রিকায় যোগ দেন। সন্তোষ মজুমদার তাঁর থেকে এক বছরের বড় ছিলেন। হাইলাকান্দি হরকিশোর হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন সন্তোষ মজুমদার আর তিনিও ওই স্কুলের ছাত্র। তাঁদের সঙ্গে ছিল পারিবারিক সম্পর্ক। নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য কাজ করে গিয়েছেন।

নীতীশ ভট্টাচার্য বলেন, সন্তোষ মজুমদারের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে, যেকোনও মানুষকে আপন করে নেওয়া। পাশাপাশি করতেন শাসনও। তবে এই শাসন ছিল সকলের মঙ্গলের জন্য। শাসন করলেও তৎক্ষণাৎ আপন করে নেওয়ার তাঁর পৃথক ক্ষমতা ছিল। আজকের দিনে এধরনের শাসন করার মতো লোক পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন নীতীশ ভট্টাচার্য। তরুণ সাংবাদিকরা যখনই তাঁর কাছে যেতেন তিনি সাধ্যমতো সহযোগিতা তাদের করতেন । সন্তোষ মজুমদারের আরেকটি বড় গুণ ছিল লেখা। হোটেলে বসে অনবরত লিখতেন। কী লিখতেন তিনি নিজেও জানতেন না, কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা লেখতে পারতেন। সন্তোষ মজুমদার একজন উদ্যোগী ব্যক্তি ছিলেন, আজকাল এধরনের উদ্যোগী ব্যক্তি খুব কম পাওয়া যায় বলে মনে করেন প্রবীণ সাংবাদিক নীতীশ ভট্টাচার্য। সন্তোষ মজুমদারের প্রয়াণে বরাকে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন নীতীশ ভট্টাচার্য।
শুরুতে প্রয়াত সন্তোষ মজুমদার সম্বন্ধে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শিলচর থেকে আগত বার্তাজীবী সংঘের রাষ্ট্রীয় পরিষদের সদস্য সাংবাদিক অভিজিত ভট্টাচার্য বলেন, সন্তোষ মজুমদার ছিলেন প্রকৃত সাংবাদিক। ছিল তাঁর অমায়িক ব্যবহার। সবাইকে আপন করে নেওয়ার এক যাদুমন্ত্র ছিল তাঁর কাছে। সন্তোষ মজুমদারের সান্নিধ্য লাভে তিনি ধন্য হয়েছিলেন বলে জানান অভিজিত ভট্টাচার্য।
বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক রতন দেব বলেন, সন্তোষ মজুমদারকে তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। তাঁর সাংবাদিকতার কলম ছিল ক্ষুরধার। তাঁর মতো ব্যক্তির প্রয়াণে বরাকে সাংবাদিক জগতে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। শিলচরের আরেক সাংবাদিক অনির্বাণ জ্যোতি গুপ্ত বলেন, সন্তোষ মজুমদারের প্রয়াণে বরাক সাংবাদিক জগতের বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে যা সহজে পূরণ করার নয়। তিনি তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। বরাক উপত্যকা ক্রিড়া সাংবাদিক সংস্থার আরেক শীর্ষ কর্তা কিংকর দাস বলেন, সাংবাদিক সন্তোষ মজুমদার ছিলেন বরাকের সাংবাদিকদের অভিভাবক।
হাইলাকান্দি জেলা বার্তাজীবী সংঘের প্রাক্তন উপদেষ্টা সন্তোষ মজুমদার সম্বন্ধে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন হাইলাকান্দি জেলা বার্তাজীবী সংঘের বর্তমান উপদেষ্টা তিলক রঞ্জন দাস, জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য, বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক স্বপন পাল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা ড্রিমস ও সাংস্কৃতিক মহাসভার হাইলাকান্দির সভাপতি গৌতম গুপ্ত, আমি আদমি পার্টির সভাপতি অপু পাল, বার্তাজীবী সংঘের রাষ্ট্রীয় পরিষদের সদস্য রাহুল চক্রবর্তী, বেসরকারি প্রিসেইন্সিয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ডিরেক্টর ডঃ অভিজিত মিত্র, বার্তাজীবী সংঘের হাইলাকান্দি জেলা সভাপতি অনিন্দ্য কুমার নাথ, অসম সাহিত্য সভার শিলচর আঞ্চলিকের সাংগঠনিক সম্পাদক সন্দীপন পাল, কবি লেখক সুশান্ত মোহন চ্যাটার্জি প্রমুখ। প্রত্যেকেই সন্তোষ মজুমদারের মতো মহান হৃদয়ের মানুষ, সমাজ দরদী ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেন। স্মরণসভা শেষে প্রয়াতের আত্মার চিরশান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



