Barak UpdatesHappeningsCultureBreaking News
সম্মিলিত লোকমঞ্চের দু’দিনের ধামাইল উৎসবের সূচনা শিলচরে
ধামাইল শুধু বিনোদন নয়, একটি জীবন সাধনা : উপাচার্য ডঃ মানবেন্দ্র দত্তচৌধুরী

ওয়ে টু বরাক, ২৮ ডিসেম্বর : শিলচর শিশু উদ্যানে সম্মিলিত লোকমঞ্চের উদ্যোগে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে দুদিনের বরাক উপত্যকা ভিত্তিক সমবেত ধামাইল নৃত্য ও ধামাইল কন্যা প্রতিযোগিতা। এ দিন সকাল এগারোটায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দুদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধান অতিথি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয় (হোজাই)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মানবেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, অসম সরকারের দুই মন্ত্রী যথাক্রমে কৌশিক রাই ও কৃষ্ণেন্দু পাল, বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী ও কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, সম্মিলিত লোকমঞ্চের সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট লোকশিল্পী হেমলতা দাসকে সংস্থার তরফে সম্মাননা জানানো হয়।
এ দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. মানবেন্দ্র দত্তচৌধুরী বলেন, ধামাইল শুধু বিনোদন নয়, একটি জীবন সাধনা। ধামাইলের জনক রাধারমণ দত্তের লেখা বিভিন্ন গানে আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনার কথা ফুটে উঠেছে। ধামাইলকে যদি পর্যটনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় তখন বরাক উপত্যকায় পর্যটনের ক্ষেত্র উন্নত হবে এবং এর মাধ্যমে আর্থ সামাজিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রাই বলেন, রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা বিভাগ ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শিলচরে যাতে সরকারিভাবে বড় আকারে ধামাইল উৎসব করা যায়, এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি বলেন, বরাক উপত্যকার লোক সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ ধামাইলকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে তিনি সোচ্চার থাকবেন।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল তাঁর বক্তব্যে বরাক উপত্যকার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে সম্মিলিত লোকমঞ্চ যে প্রয়াস করে যাচ্ছে তারজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ও দীপায়ন চক্রবর্তী, বিজেপি কাছাড় জেলা সভাপতি বিমলেন্দু রায়, কবি সাংবাদিক অতীন দাশ, সমাজসেবী স্বর্ণালী চৌধুরী প্রমুখ। এ দিন মোট দশটি ধামাইল দল সমবেত ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করে। তাদের হাতে শংসাপত্র ও স্মারক সম্মাননা তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি সহ সংস্থার সদস্যরা। আগামীকাল আরও চৌদ্দটি দল সমবেত ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করবে, সেই সঙ্গে থাকবে ধামাইল নৃত্য প্রতিযোগিতা । এ দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত লোকমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর দাস। সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন সংস্থার সভাপতি ড. অনুপ কুমার রায়। গোটা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপ্লব বিশ্বাস ও পঞ্চতপা চৌধুরী।
উল্লেখ্য, এ দিন বিচারকের আসন অলংকৃত করেন ধর্মনগরের দৈপায়ন ভট্টাচার্য ও শিলচরের দেবলীনা চৌধুরী। এ দিনের অনুষ্ঠানের অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোক গবেষক অধ্যাপক ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড়, শহরের বিশিষ্ট নাগরিক ইঞ্জিনিয়ার অংশু কুমার রায়, শিক্ষাবিদ ড. অসীমা রায়, ড. বিভাষ রঞ্জন দেব প্রমুখ। ছিলেন সম্মিলিত লোকমঞ্চের উপ-সভাপতি সুপ্রদীপ দত্তরায়, গৌতম সিনহা, মঙ্গলা নাথ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কানাইলাল দাস, কোষাধ্যক্ষ ঝিমলি নাথ, যুগ্ম সম্পাদক অঙ্কিতা ভট্টাচাৰ্য, প্রচার সম্পাদক কমলেশ দাশ, বরিষ্ঠ সদস্য দীপক নাথ, গৌরীশঙ্কর নাথ প্রমুখ।



