Barak UpdatesIndia & World UpdatesHappeningsBreaking News
মানুষের কথা জানতে হলে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে পড়তে হবে: তলাপাত্র

ওয়েটুবরাক, ২৩ এপ্রিল: নরেন্দ্র মোদির নাম না করেই ওড়িশা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্র বিশ্ব পুস্তক দিবসের অনুষ্ঠানে বলেন, “ওই মানুষটি একদিকে বলছেন, ৮০ কোটি মানুষকে অন্ন খাওয়াচ্ছি আমি। আবার তিনিই বলেন, পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে দেশ।” দুটি বিষয়কে একসাথে নিয়ে ভাবতে পরামর্শ দেন তলাপাত্র। তাঁর কথায়, আমাদের সিলেবাস তৈরি করে পুজিবাদ। তাই ভাবতে হবে সিলেবাসেই থাকব, নাকি এর বাইরে গিয়ে মানুষের কথা জানব।
শুভাশিস তলাপাত্র বুধবার আগরতলায় অক্ষর পাবলিকেশনস আয়োজিত বিশ্ব পুস্তক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ধর্মগ্রন্থ ধর্ম বিকাশের জন্য তৈরি হয়নি। এর পক্ষে নানা ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন তিনি।রবীন্দ্রনাথকে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন যে বইতে বলেছেন, তিনি একজন বিখ্যাত দার্শনিক, সে বইটির ভূমিকা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ নিজে। কিন্তু পেঙ্গুইনকে শাস্ত্রকারদের চাপে পড়ে সেই ভূমিকা সরিয়ে নিতে হয়েছিল। কারণ রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, উপনিষদ ধর্মশাস্ত্র নয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তলাপাত্রের কথায়, এই সব কথা কোনও সিলেবাসে পড়ানো হয় না। তাই মানুষের কথা জানতে হলে সিলেবাসের বাইরে গিয়ে পড়তে হবে।
পাশাপাশি তলাপাত্র এও বলেন, প্রত্যেকের জীবনের গল্প রয়েছে। মানুষের জীবনের এই অভিজ্ঞতা বা গল্পগুলি আসুক বইয়ের পাতায়।
সুকান্ত একাডেমিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গবেষক-সমাজ সংগঠক কুমার রানাও ‘সিলেবাসের বাইরের বই পড়া: এই সময় ও সমাজ’ বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বই পড়াকে আবশ্যিক কাজে পরিণত করতে হবে। সিলেবাসের বাইরের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তাতে যে কী ধরনের সুফল মেলে, তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতায় সে কথা তুলে ধরেন। বলেন, বই পড়ার অভ্যাসের কারণেই বাণিজ্য শাখায় পড়াশোনা করেও তিনি আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমাজ ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিতে পেরেছিলেন।
প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ দিন বিশিষ্ট প্রকাশক ‘হাচুকনি খরাঙ পাবলিশার্স’-র কর্ণধার অজিত দেববর্মাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সুপাঠক হিসেবে সংবর্ধিত হলেন আগরতলা শহরের বাসিন্দা, স্কুলশিক্ষক মৈনাক মজুমদার।
‘কুমুদ কুণ্ডু চৌধুরী স্মৃতি সম্মাননা’ প্রদান করা হয় ককবরক ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক হরিপদ দেববর্মাকে। হরিপদবাবু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী ঊষা দেববর্মা এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এ দিন অনুষ্ঠানের শুরুতে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী শংকরানন্দ চক্রবর্তী। স্বাগত ভাষণ রাখেন “অক্ষর পাবলিকেশানসর কর্ণধার শুভব্রত দেব।
অকালপ্রয়াত তরুণ কবি “জাফর সাদেক” এর কবিতা সমগ্র (গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত) এবং কুমুদ কুণ্ডু চৌধুরীর ককবরক : এ প্রমিসিং ট্রাইবেল ল্যাঙ্গুয়েজ ইন নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া বইয়ের পুনর্মুদ্রণ এবং অক্ষরের “মলাট” নামের একটি ছোট পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদয়শংকর ভট্টাচার্য।



