Barak UpdatesHappeningsBreaking News
ভাষাবিভেদ মিটে গিয়েছে, বরাক-ব্রহ্মপুত্র এখন কাছাকাছি, দাবি হিমন্তের
দেশভক্ত তরুণরাম ফুকন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী

ওয়েটুবরাক, ১৯ মার্চঃ অসমিয়া ও বাংলা ভাষার মধ্যে কে আগে, কোন ভাষা থেকে কার উদ্ভব হয়েছে, এ নিয়ে বিতর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এ বার দুই ভাষার একইসঙ্গে ধ্রুপদী স্বীকৃতির দরুন অসমিয়া ও বাংলা ভাষার বিভেদ ঘুচে গিয়েছে। প্রতিযোগিতার বদলে দুই ভাষার বৌদ্ধিক মহল এখন স্ব স্ব ভাষার বিকাশ ও উত্তরণে কাজ করে চলেছেন। তাতে উভয় ভাষা লাভবান হচ্ছে।
দেশভক্ত তরুণরাম ফুকন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, ভাষা বিভেদ মিটে যাওয়ায় বরাক-ব্রহ্মপুত্র কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি সেজন্য বরাকের উন্নয়নকেও কৃতিত্ব দেন এবং বলেন, এই উন্নয়ন এসেছে বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর। উদাহরণ স্বরূপ টেনে আনেন ব্রডগেজের কথা। তাঁর দাবি, ব্রডগেজ বরাক-ব্রহ্মপুত্রকে কাছাকাছি এনেছে। আরও কাছে আসার জন্য হিমন্ত প্রস্তাব দেন, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় যেমন বাংলা সাহিত্যের অধিবেশন হয়, একই ভাবে বরাক উপত্যকায় অসম সাহিত্য সভার কেন্দ্রীয় অধিবেশনের আয়োজন করা হোক।
মঙ্গলবার স্কুলচত্বরে ঢুকতেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে স্বাগত জানান স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি আইনজীবী শশাঙ্ক দেব, অধ্যক্ষা সুপর্ণা সিনহা, শিক্ষক স্বপন সিনহা, প্রাক্তন শিক্ষক সঞ্জীব মেধি প্রমুখ। মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে দেশভক্ত তরুণরামের আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া, কৌশিক রাই, কৃষ্ণেন্দু পাল, বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী সহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। সময়ের স্বল্পতার দরুন আনুষ্ঠানিকতার বদলে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর ধরে বরাক উপত্যকায় অসমিয়া মাধ্যমের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষাদান করে চলেছে, এ কম বড় কথা নয়। তিনি স্কুলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বরাকে অসমিয়া ভাষার স্কুল বললে ৭২ বছর আগের কথা। ১৯৫৩ সালে এখানে অসম সাহিত্য সভার শাখা গঠনের পর অসমিয়া মাধ্যমের স্কুলের সূচনা হয়। তখন নির্মিত হয়েছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার বছর হয় মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয়। ১৯৭২ সালে মাত্র পাঁচজন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশভক্ত তরুণরাম ফুকন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই স্কুলের জন্য ছাত্রাবাস এবং ছাত্রীনিবাস তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে বলেন, রাজ্য সরকার পাঁচশোটি স্কুলকে চার কোটি টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশভক্ত তরুণরাম ফুকন উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রস্তাব পাঠালে তাও বিবেচনা করা হতে পারে।



