Barak UpdatesHappeningsBreaking NewsFeature Story
বদরপুর দুর্গ: ইতিহাসের আলোকে একটি পুনর্মূল্যায়ন, লিখেছেন সঞ্জীব দেবলস্কর

//সঞ্জীব দেবলস্কর//
আসাম বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বরাত দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, “বদরপুর দুর্গটি মধ্যযুগের অন্তিম পর্বের নিদর্শন এবং এটি কাছাড়ি রাজা গোবিন্দচন্দ্রের শাসনামলে নির্মিত।” তবে এই দাবির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন জড়িত, এদিকে বিশেষ দৃষ্টিপাত প্রয়োজন। যে-দুর্গে মুঘল সামরিক স্থাপত্যের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, সে দুর্গ গোবিন্দচন্দ্রের (১৮১৩–১৮৩০) স্বল্পকালীন ও রাজনৈতিক অস্থিরতাপূর্ণ শাসনকালে নির্মিত বলে মনে করা কঠিন।
আলোচনায় যাওয়ার আগে প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন। এই লেখক সম্প্রতি ঐতিহাসিক স্থলটি পরিদর্শন করেননি। ফলে সেখানে বর্তমানে বিদ্যমান কোনো শিলালিপি, প্রত্ননিদর্শন বা অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তাঁর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে পরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। এ পর্যবেক্ষণ ঐতিহাসিক সূত্র, প্রামাণ্য গবেষণা এবং তথ্যের ভিত্তিতে নিবেদিত।
বদরপুরের সঙ্গে মুঘলদের সম্পর্ক এই অঞ্চলে ডিমাসা রাজশক্তির আত্মপ্রকাশের বহু পূর্বের। সম্রাট আকবরের (১৫৫৬–১৬০৫) শাসনকালে শ্রীহট্ট অঞ্চলটি ‘সুবে বাংলার’ অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অঞ্চলটি পুনর্গঠিত হয় একজন ‘ফৌজদারে’র অধীনে একটি ‘সরকার’ হিসেবে। এ প্রক্রিয়ায়ই মুঘল প্রশাসনিক উদ্যোগে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেকগুলো থানা এবং ওই সময়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী সামরিক চৌকি ও সুরক্ষিত গড় হিসেবে বদরপুরের আত্মপ্রকাশ। আকবরের সচিব রাজা টোডরমলের রাজস্ব পুন:নির্ধারণের সময় শ্রীহট্টকে আটটি ‘মহলে’ বিভক্ত করা হয়। ওই আটটি মহলের একটি ছিল প্রতাপগড় (বর্তমান করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত), এ কথাটির উল্লেখও এখানে থাকুক।
পরবর্তীকালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের (১৬০৫–১৬২৭) শাসনকালে ১৬১২ সালে মাইবাং রাজধানীকেন্দ্রিক ডিমাসা রাজ্যের বিরুদ্ধে মুঘলদের দুটি সামরিক অভিযান সংঘটিত হয়। অসুরিটিকর ও প্রতাপগড়ে পরাজয়ের পর ডিমাসা রাজা সন্ধির চুক্তি হিসেবে মুঘল দরবারে ৪০টি হাতি ও ১ লক্ষ টাকা, বাংলার সুবেদারের দরবারে ৫টি হাতি ও ২০ হাজার টাকা এবং বদরপুরের নিকটবর্তী বুন্দাশিলের থানাদারের কাছে নজরানা হিসেবে ২টি হাতি ও ২০ হাজার টাকা প্রদান করতে সম্মত হন। এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, গোবিন্দচন্দ্র সিংহাসনে আরোহণের বহু আগেই বদরপুর মুঘল প্রশাসনের অধীনে এ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত প্রতিরক্ষা কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল।
গোবিন্দচন্দ্র ১৮১৪ সালে খাসপুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর শাসনকাল ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিপূর্ণ। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বিধবা ইন্দুপ্রভার সঙ্গে তাঁর বিবাহকে কেন্দ্র করে হিন্দুধর্মাবলম্বী ডিমাসা অভিজাত সম্প্রদায় এবং বাঙালি সভাসদদের একাংশের বিরোধিতা, রাজ্যে বারবার বর্মি ও মণিপুরি আক্রমণ, সে সঙ্গে তীব্র আর্থিক অনটন ও সামরিক সংকট তাঁর প্রশাসনকে আরও দুর্বল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খাসপুর রাজধানী ত্যাগ করতে হয়, কিছু সময়ের জন্য উত্তর কাছাড়ের অরণ্যেও আশ্রয় নিতে হয়, পরে কিছুদিনের জন্য শ্রীহট্টে আশ্রয় গ্রহণ করে পুনরায় কাছাড়ে ফিরে এসে রাজা আর খাসপুরে ফিরে না গিয়ে হরিটিকরে একটি অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।
মহারাজ গোবিন্দচন্দ্র মূলত ভক্তিমূলক সাহিত্য, বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব গীতিনাট্য ‘রাসোৎসব গীতামৃত’ এবং কীর্তনগীতিকার স্রষ্টা এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আজও বরাকের গ্রামে গঞ্জে বিশেষ পরিচিত। ডিমাসা রাজত্বের শেষ স্বাক্ষর প্রস্তর নির্মিত মন্দির, প্রাসাদের অবশিষ্টাংশও যদি কোনও দিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, যদি ভূর্জপত্রে লিখিত সনন্দের অক্ষরও মুছে যায়, পাথরের গায়ে লেখা বাক্য সব ক্ষয়ে যায় তবুও মধুরা-জাটিঙ্গা-ধলেশ্বরী, জিরি-চিরি- সোনাই-রুক্ষণি আর বরাক-সুরমার তীরে ধ্বনিত হবে হেড়ম্ব পদাবলির স্নিগ্ধ কলি—
কোথা বৃন্দাবন কোথা নিকুঞ্জ কুটির।
কোথা ব্রজাঙ্গনাগণ, প্রিয় রাধা মোর।।
বৃন্দাবন রাসস্থলী স্মরিয়া কাতর।
বাক্য নাহি স্মরে প্রভু ভাবে জরজর।।
শ্রীগৌরাঙ্গ কৃষ্ণচন্দ্র লীলামৃত রসে।
শ্রীগোবিন্দচন্দ্র নৃপ কবে জানি ভাসে।।
বলছিলাম, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একেবারে মুঘল সামরিক স্থাপত্যধারায় একটি বৃহৎ সীমান্ত দুর্গ নির্মাণের মতো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ এবং বাস্তব সামর্থ মহারাজ গোবিন্দচন্দ্রের ছিল বলে মনে হয় না। সমকালীন সূত্র অনুযায়ী অত্যন্ত অনাড়ম্বর রাজপ্রাসাদ অর্থাৎ এ সাদামাটা রাজপাটের (a very humble palace) অনতিদূরে দণ্ডায়মান সামরিক দিক থেকে সুরক্ষিত বদরপুর দুর্গের নিরাপত্তায় মহারাজের বসবাসের তো কোনও কথাই নেই। এখানে ইংরেজ প্রশাসকের আহ্বানে একটি সাক্ষাৎকার ছাড়া মহারাজের প্রবেশের কোনও কারণও তো দেখছি না। ১৮২৪ সালের ৬ মার্চ ঔপনিবেশিক প্রশাসক ডেভিড স্কটের সঙ্গে এ দুর্গে মহারাজের যে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে এর ফলে রাজ্যের সার্বভৌমত্বও ক্ষুণ্ণ হয়েছে, স্বাধীন সার্বভৌম ডিমাসা বা হেড়ম্ব রাজ্য পর্যবসিত হয় একটি করদ রাজ্যে। এহ বাহ্য।
মাননীয় সরকার এবং বিধানসভার সম্মানিত সভাসদেরা চাইলে অবশ্য যে কোনও সিদ্ধান্তই আজকাল কার্যে পরিণত করতে পারেন, আর নীতিগতভাবে বদরপুরের দুর্গটি মহারাজা গোবিন্দচন্দ্রের নামে নামাঙ্কিত করার প্রস্তাবটি অগ্রহণযোগ্য নয়ও বটে। এতে কোনও পক্ষ এবং প্রতিপক্ষ, বা বাক্ বিতণ্ডা থাকার প্রশ্নই অবান্তর। তবে সিদ্ধান্তটি নেবার আগে একটু জনমত যাচাই করার অবকাশ রয়েছে বৈ কি।
এক্ষণে এ কথাটি বলতেই হয়, হেড়ম্ব রাজন্যকূলের প্রতি ডিমাসা জনগোষ্ঠী ছাড়াও কাছাড়ে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পূর্বাপরই শ্রদ্ধামিশ্রিত এক গভীর অনুরাগ এবং আন্তরিক দুর্বলতাও বিদ্যমান। তাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে সেই মাইবাং পর্বে মহারাণী চন্দ্রপ্রভার অনুপ্রেরণায় ভুবনেশ্বর ভট্টাচার্য বাচষ্পতি বিরচিত মহাকাব্যোপম গ্রন্থ ‘শ্রীনারদি রসামৃত’ (এ গ্রন্থের পুষ্পিকায় আছে ‘হরিধ্বনি কর গ্রন্থ হইল সমাপন/ ষোলশ বাহান্ন শকেতে হইল যে লিখন’) । এ ছাড়াও রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় একাধারে সংস্কৃত এবং বাংলাভাষায় ‘দণ্ডবিধি’, ‘ঋণাদান বিধি’ প্রণয়ন, মহারাজ কীর্তিচন্দ্রের রাজকীয় সনন্দ ও অভয়পত্র (১৭৩৬ খ্রিঃ), রাজসভা কর্তৃক উধারবন্দ, কালাইন, হাইলাকান্দির বিভিন্ন স্থানে একাধিক নিয়োগপত্র প্রদান এবং সর্বোপরি সরকারি কর্ম, প্রতিবেশী আহোম, জয়ন্তীয়া রাজ্য, সিলেটের ইংরেজ রেসিডেন্টের সঙ্গে পত্রবিনিময় ইত্যাদিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং এ ভাষায় গীত কাব্য রচনায় সৃজনশীল অবদানের জন্য বরাকের বাঙালির কাছে এ রাজন্যকূল চিরকালীন শ্রদ্ধার আসনে রয়েছেন। এ শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে ১৯০১ সালে বড়খলায় প্রতিষ্ঠিত রাজা গোবিন্দচন্দ্র মেমোরিয়্যাল স্কুল দাঁড়িয়ে আছে, রয়েছে মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য ‘গোবিন্দচন্দ্র শিক্ষাভাণ্ডার’ও। আর শিলচর আবর্তভবনে মহারাজের মূর্তি, শহরের প্রধান একটি সড়ক ‘গোবিন্দচন্দ্র পথ’ এ কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, বিশ শতকের প্রথম দশকে ১৯১৪ সালে শিলচরে অনুষ্ঠিত সুরমা সাহিত্য সম্মিলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে কাছাড় শ্রীহট্টসহ সমগ্র অঞ্চলটির বিদ্বজ্জনের অংশগ্রহণে বরাকের ডিমাসা সুসন্তান নন্দলাল বর্মণ, মণিচরণ বর্মন এবং হেড়ম্ব রাজবংশজ মোহনসিং বর্মনের সক্রিয় সহযোগিতায় যে কয়েকটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, এর মধ্যে বড়খলার বিপিনচন্দ্র দেবলস্কর উত্থাপিত, মৌলবী মফিজুর রহমান সমর্থিত এবং সিলেটের অম্বিকাচরণ দেব পঠিত প্রস্তাবটি অন্যতম (প্রস্তাব নং ২)। এতে ‘খাসপুরের রাজবাড়ির ভগ্নাবশেষ, তুলাগ্রামের শিবটিলার মন্দির, মাইবঙ্গের পাষাণ প্রাসাদ’ ইত্যাদি সরকারি ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষণী’ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করায় গভর্নমেন্টকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। আবার জগন্নাথ দেব উত্থাপিত, কীর্তিচন্দ্র মজুমদার সমর্থিত, ভাষাবিদ মণিচরণ বর্মন পঠিত তৃতীয় প্রস্তাবে ‘কাছাড়ের শেষ রাজধানী মহারাজ গোবিন্দচন্দ্রের মৃত্যুস্থান হরিটিকরে’ একটি স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করার কথা বলা হয়। শুধু এখানেই নয়, এ মর্মে একটি সমিতিও গঠন করা হয়, যে সমিতিতে সদস্য নির্বাচিত হন জননেতা কামিনী কুমার চন্দ, শিক্ষাবিদ দীননাথ দাস, রায়বাহাদুর বিপিনচন্দ্র দেবলস্কর, কীর্তিচন্দ্র মজুমদার, নন্দলাল বর্মন, উমাপ্রসন্ন বিশ্বাস, সারদাচরণ চক্রবর্তী, ঈশ্বরচন্দ্র চৌধুরীর মতো স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। (দ্রষ্টব্য সম্মেলনের ২য় অধিবেশনের শতবর্ষ পূর্তিতে মুদ্রিত স্মারক গ্রন্থ, বরাক উপত্যকা বঙ্গসাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন কর্তৃক প্রকাশিত, (২০১৮) এবং অমলেন্দু ভট্টাচার্য কর্তৃক সম্পাদিত, পৃ.৮০, ৮৩)। মোদ্দা কথা, স্থায়ীভাবে মহারাজের স্মৃতি সংরক্ষণের ভাবনা কোনো অর্বাচীন কালের কতিপয় ব্যক্তি বা সংগঠনের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্যোগ নয়। আমাদের পূর্বসূরীরাই বহু আগে (১১২ বছর পূর্বে) এ প্রয়াসের সূচনা করেছিলেন, যা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। ফলে এ-সংক্রান্ত উদ্যোগ ও তৎপরতাকে নিছক লোকদেখানো বা সাময়িক প্রচারসর্বস্ব বলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
আরও বলা প্রয়োজন, বিশ শতকের প্রথম দশকে পণ্ডিত পদ্মনাথ ভট্টচার্য বড়খলা, সোনাপুর এবং ডলুগ্রাম থেকে ‘হেড়ম্ব দণ্ডবিধি’র খণ্ডিত অংশ, মহারাজ কীর্তিচন্দ্র প্রদত্ত সনন্দ উদ্ধার করে প্রকাশ করেন সচিত্র, সটীক, ভূমিকা সম্বলিত গ্রন্থ ‘হেড়ম্ব রাজ্যের দণ্ডবিধি’ (১৯১০) যার সঙ্গে বর্তমান লেখকের পিতৃপুরুষেরও নিবিড় পারিবারিক অনুষঙ্গ জড়িত। এ অবস্থায় ডিমাসা রাজত্বকালীন ঐতিহাসিক সৌধ, এবং এর সঙ্গে জড়িত রাজপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকল্পে কোনও ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন আমি মনে করি। এ কর্মে ইতিহাসকে নতুন করে নির্মাণ নয়, ঐতিহাসিক তথ্য, যুক্তিগ্রাহ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এবং মুক্তমনেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রচ্ছন্ন রেখে অতীতকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা ইতিহাস এবং সমাজ কারো পক্ষেই খুব শুভ হতে পারে না।
এ কথাও স্মরণ করে রাখি যে, কোচ ও ডিমাসা রাজবংশের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং অত:পর কাছাড়ে কোচ শাসনের অবসান এবং খাসপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ডিমাসা শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ রাজধানীতে মাত্র দুইজন শাসকই রাজত্ব করেছেন—মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র (মৃত্যু ১৮১৪) এবং মহারাজা গোবিন্দচন্দ্র (মৃত্যু ১৮৩০)। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের আর্থ সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, সুপরিকল্পিত মুঘল সামরিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি সীমান্ত দুর্গের নির্মাণকে খাসপুর রাজসভার কৃতিত্ব বলে প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে ঐতিহাসিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
উপরের পর্যবেক্ষণগুলোর উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখা, ইতিহাসকে যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে মূল্যায়ন করা; কোনও ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন নয় তো কদাপিও নয়।
( বি.দ্র. এ বিষয়ে বর্তমান লেখকের পূর্বপ্রকাশিত ইংরেজি নিবন্ধে (A note on Badarpur Fort, Way2barak.com—12 th July) মহারাজ গোবিন্দচন্দ্রের সিংহাসন আরোহনের সাল ১৬১৭ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছিল। তবে এ তারিখগুলো সবই সম্ভাব্য, এবং ভিন্নতর সূত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে মনে হচ্ছে সালটি ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দ।)



