India & World UpdatesHappeningsBreaking News
নেপালে হিংসা, ২০ জনের মৃত্যু, পদ ছাড়লেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ওয়েটুবরাক, ৯ সেপ্টেম্বর: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলে রাখেন, প্রয়োজনে নিজের পদ ছেড়ে দেবেন। এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওলি বলেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে প্রস্তুত, কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর আরোপিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলবেন না।
এ দিকে, সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জেন-জি প্রজন্মের সহিংস বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন শহরে সহিংস বিক্ষোভে মৃত্যুর ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদ ছেড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। ওলি বলেন, ‘আমিও পদ ছাড়তে প্রস্তুত, কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে।’
তবে ওলি সরকারের শরিক নেপালি কংগ্রেসের মন্ত্রীরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাতেই প্রধানমন্ত্রী জবাবে বলেন, তাঁর সরকার উচ্ছৃঙ্খল জেন-জি প্রতিবাদকারীদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে কংগ্রেসি মন্ত্রীরা বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন।
সহিংস বিক্ষোভের পর কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ‘হামি নেপাল’ নামের একটি এনজিও এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান সংগঠক। তারা ঘোষণা করেছে যে যতক্ষণ না সরকার মৃত্যুর জবাব দিচ্ছে, ততক্ষণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
কাঠমান্ডু ছাড়াও পোখারা, বিরাটনগর এবং বুটওয়ালসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে ওলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশের বয়স ২৮ বছরের কম, তারা স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরে রাস্তায় নেমেছে। তারা ‘দুর্নীতি বন্ধ করো, সামাজিক মাধ্যম নয়’ এবং ‘ওলি পদত্যাগ করো’ স্লোগান দিচ্ছিল।
কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহ এবং সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন, যদিও তারা সহিংস না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন
প্রসঙ্গত, ওলি সরকার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, লিঙ্কডইন, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট সহ মোট ২৭টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকার জানিয়েছে, নেপালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী এই কোম্পানিগুলোকে দেশে নিবন্ধন করাতে বলা হয়েছিল, যার সময়সীমা ছিল ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তরুণ বিক্ষোভকারীরা ওলি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দুর্নীতি আড়াল করা এবং বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। চীনা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক নেপালে এখনও চালু রয়েছে এবং এর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।



