India & World UpdatesHappeningsBreaking News
না ফেরার দেশে ধর্মেন্দ্র

ওয়েটুবরাক, ২৫ নভেম্বর: সোমবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ধর্মেন্দ্র। এ দিনই পবন হংস শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বলিউডের হি-ম্যানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই বলিউড তারকারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান।
১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার লুধিয়ানাতে (পাঞ্জাব) জাঠ পরিবারে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। বাবা ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। পড়াশোনার প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওলের। দিলীপ কুমার ও মতিলালের অভিনয় দেখে স্বপ্ন দেখতেন রূপোলি পর্দার নায়ক হওয়ার।
কৈশোরেই ধর্মেন্দ্রর রূপ ছিল দেখার মতো, সুদর্শন। তা সত্ত্বেও আর্থিক অনটনের জেরে মাঠে-ঘাটে কাজ করেছেন ধর্মেন্দ্র। আর স্বপ্ন দেখতেন সিনেমায় অভিনয়ের। তাই পরিবার তাঁকে বেঁধে রাখতে ১৯ বছরেই বিয়ে দিয়ে দেয় প্রকাশ কৌরের সঙ্গে। তাতেও তাঁর স্বপ্ন উড়ান থেমে যায়নি।
১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ারের ট্যালেন্ট হান্ট কম্পিটিশনে অংশগ্রহণের জন্য চিঠি পাঠান ধর্মেন্দ্র। সেই চিঠিই ভাগ্য ফেরায় তাঁর। মুম্বই থেকে ডাক আসে। সুপুরুষ ধর্মেন্দ্রর ভাগ্য তাঁকে নিয়ে আসে মায়ানগরী মুম্বইতে। নিজের ট্যালেন্টের উপর ভর করেই এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হন ধর্মেন্দ্র। প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘মেহবুব স্টুডিয়োয় প্রতিযোগিতার ফল বেরোনোর দিন চিন্তায় আমার গলা থেকে জলও নামছিল না। আমার সঙ্গে আরও অনেক প্রতিভাশালী অভিনেতা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁরাও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলেন। কে জিতবে কেউ জানতো না।’
এই প্রতিযোগিতার সুবাদে তিনি বিমল রায়ের নজরে আসেন। ‘বন্দিনী’ সিনেমার জন্য নির্বাচিত হন। ‘বন্দিনী’ ধর্মেন্দ্রের অভিনীত প্রথম সিনেমা হলেও তা রিলিজ হতে সময় লেগেছিল। ফলে বন্দিনীতে কাজ করার পরেও প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হত ধর্মেন্দ্রকে। হাতে টাকা ছিল না, জুটত না দু-বেলার খাবার। একটা সময় হাল ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, তাঁকে আটকান মনোজ কুমার।
পরে ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ ছবির সঙ্গে বলিউডে ডেবিউ করেন ধর্মেন্দ্র। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ‘শোলা অউর শবনম’ (১৯৬১) ছবিটি সাফল্যের মুখ দেখে। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৬ সালে ‘ফুল ও পাথ্থর’ ছবির সঙ্গে তিনি বলিউডের এক নম্বর ‘অ্যাকশন হিরো’ হয়ে ওঠেন। এরপর একে একে জীবন মৃত্যু, ইয়াদো কি বারাত, চারাস, চুপকে চুপকে, সীতা অউর গীতা, শোলে, দোস্ত, আজাদ, ডি বার্নিং ট্রেন —- ধর্মেন্দ্রর ফিল্মোগ্রাফিতে ব্লকবাস্টার ছবির সংখ্যা অগুণতি।
ব্যক্তিগত জীবনেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি ধর্মেন্দ্রর। অভিনয় কেরিয়ার শুরুর আগে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। প্রকাশ কৌরের সঙ্গে তাঁর চার সন্তান। দুই পুত্র সানি ও ববি প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। কিন্তু স্বপ্নসুন্দরী হেমা মালিনীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। জিতেন্দ্রর সঙ্গে হেমার বিয়ে ভেঙে দেন। মেয়ের পরকীয়ায় সায় ছিল না পরিবারের। হেমার বাবার মৃত্যুর পর, ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন দুজনে। তবে নিজের প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেননি ধর্মেন্দ্র। হেমা ও ধর্মেন্দ্রর দুই কন্যা- এষা ও অহনা।
রাজনীতির ময়দান থেকেও দূরে থাকেননি বলিউডের হি-ম্যান। ২০০৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে রাজস্থানের বিকানির থেকে নির্বাচনে জেতেন। দেওলদের নিজস্ব প্রোডাকশন হাউসের ছাতায় দুই ছেলে সানি ও ববির সঙ্গে আপনে, ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা-র মতো ছবি করেছেন ধর্মেন্দ্র। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অটুট ছিল শেষদিন পর্যন্ত। করণ জোহর পরিচালিত রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি ছবিতে ৮৭ বছর বয়সেও নজর কেড়েছিলেন। শ্রীরাম রাঘবনের ইক্কিস ছবিতে শেষবার পর্দায় দেখা যাবে তাঁকে। ২৫শে ডিসেম্বর মুক্তি পাবে এই ছবি।



