Barak UpdatesHappeningsBreaking News

জাতীয় শিক্ষা দিবস যে মর্যাদায় পালন করা উচিত ছিল, তা হয় না, আক্ষেপ জয়দীপের

ওয়েটুবরাক, ১১ নভেম্বরঃ “জাতীয় শিক্ষা দিবস যে মর্যাদায় পালন করা উচিত ছিল, তা হয় না।” এই মন্তব্য করে আক্ষেপ ব্যক্ত করলেন কাছাড় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. জয়দীপ বিশ্বাস। তাঁর মতে, “জাতীয় শিক্ষা দিবস ও শিক্ষক দিবস সমমর্যাদায় পালন করা উচিত ছিল। তা না করে মৌলানা আবুল কালাম আজাদকেও আজ সাম্প্রদায়িকতার পাল্লায় মাপা হচ্ছে। কেউ বলেন, বল্লভভাই প্যাটেল যেমন হিন্দুদের নেতা, আবুল কালাম তেমনি মুসলমানদের নেতা। অনেকে আরও একধাপ এগিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রথম শিক্ষামন্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না থাকার মুখরোচক গল্প আউড়ান।” ওইসব লোকদের ভারতের ইতিহাস পড়া নেই বলে খোলামেলা মন্তব্য করেন জয়দীপ।

হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর পাবলিক হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে আয়োজিত স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী আজাদের ১৩৮-তম জন্মদিন তথা অষ্টাদশ জাতীয় শিক্ষা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনিই ছিলেন প্রধান বক্তা। হাইলাকান্দি জেলা জাতীয় শিক্ষা দিবস উদযাপন সমিতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. বিশ্বাস আরও বলেন, আবুল কালাম একাধারে ছিলেন ইসলামিক শিক্ষায় অনুরক্ত এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের বিরোধিতা করে তিনি স্বধর্মের মানুষদের অনেকের কাছে সেসময় অপ্রিয় হয়েছিলেন।

সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষা দিবসের জেলা পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। চারজনকে এ দিন মৌলানা আজাদ সম্প্রীতি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। তাঁরা হলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মৃণাল তালুকদার, উত্তর-পূর্ব ভারত আমিরে শরিয়ত ও নদওয়াতুত তামির মৌলানা ইউসুফ আলি, জমিয়তের অসম রাজ্য কমিটির সহসভাপতি মৌলানা মাহমুদুল হাসান এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মুখ্য উপদেষ্টা মৌলানা সারিমুল হক। তাঁদের হাতে অভিজ্ঞান পত্র, উপহার ও নগদ অর্থ তুলে দেন আয়োজক সমিতির মুখ্য উপদেষ্টা অঞ্জন পাল, সভাপতি হিলালউদ্দিন লস্কর, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দেব, মুজিবুর রহমান প্রমুখ। আলগাপুরের বিধায়ক নিজামউদ্দিন চৌধুরীও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক মৃণাল তালুকদার তাঁর বক্তৃতায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে উদ্ধৃত করে শোনান, এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরেক সম্প্রদায়কে লেলিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সে জায়গায় সরকারের উপযুক্ত দায়িত্ব পালন প্রয়োজন। বরাক-ব্রহ্মপুত্রের মানুষের আসা-যাওয়া বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

মৌলানা সারিমুল হক বলেন, উর্দু বললেই ইসলামিক পণ্ডিত মনে করা আমাদের ভুল ধারণা। নিজের ভাষার প্রতি দরদ না থাকার দরুনই এমন কথা শোনা যায়। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে মৌলানাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে খেদ ব্যক্ত করেন যে, এখন মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে।

মৌলানা আজাদ সম্প্রীতি পুরস্কার গ্রহণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন মৌলানা ইউসুফ আলি এবং মৌলানা মাহমুদুল হাসানও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker