Barak UpdatesHappeningsBreaking News
কেম্প্রাইর কুমন্তব্য: কাল শিলচরে এস এস পি কার্যালয় অভিযান

ওয়েটুবরাক, ২৯ অক্টোবর: বরাক উপত্যকার ভাষা শহিদদের বাংলাদেশি, অনুপ্রবেশকারীর মতো আপত্তিকর মন্তব্য করে রাজ্যের দুই ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অভিযোগে ডিমাসা রাইটার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তেশ্বর কেম্প্রাইর বিরুদ্ধে একাধিক এফ আই আর জমা পড়লেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বলে বুধবার নাগরিক সভায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করে শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী শুক্রবার বেলা এগারোটায় জমায়েত হয়ে দল বেঁধে সবাই সিনিয়র পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যাবেন। এফআইআরের ব্যাপারে তাঁর কাছেই জানতে চাওয়া হবে। সে জন্য কেম্প্রাইর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এজাহারে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের সবাইকে সেসময় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

শিলচরের সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান কর্মকর্তারা বুধবার এই নাগরিক সভার আহ্বান করেন। সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব সুব্রত ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে আহ্বান করা হয় গৌরী দত্ত বিশ্বাস, দীপঙ্কর চন্দ ও চিত্রভানু ভৌমিককে। স্পর্শকাতর ইস্যুতে আয়োজিত এই নাগরিক সভায় উপস্থিত হয়ে মতামত ব্যক্ত করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং বিজেপি বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীও। কেম্প্রাইর আপত্তিকর মন্তব্যে দুজনেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুজন ভিন্ন অভিমতই তুলে ধরেন। সুস্মিতা দেব বলেন, কেম্প্রাইর বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কারণ এখনও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেননি। তাই এসএসপির সঙ্গে সাক্ষাতের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জোরগলায় বলেন, ভাষাশহিদ স্টেশনের দাবি ছাড়া যাবে না। এ ব্যাপারে রাজ্যসভার আগামী অধিবেশনে তিনি প্রাইভেট মেম্বার’স বিল আনবেন।

বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, এই উক্তি সার্বিক ডিমাসা সমাজের হতে পারে না। তাই ব্যক্তি মুক্তেশ্বর কেম্প্রাইর বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং স্টেশনের নাম বদলের দাবি আদায়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেন বিধায়ক চক্রবর্তী। সেজন্য একটি কোর কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর কথায়, ভোটকে সামনে রেখে নানা অপচেষ্টা হবে, সেসবে পা দিলে চলবে না আমাদের। বুঝেশুনে এগোতে হবে। স্টেশনের আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌছানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “এই কাজে সব ভাষাগোষ্ঠীর পরামর্শ নেওয়া হোক। আমিও পাশে থাকব।”

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য ২৯ সংগঠনের জোটগঠনকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তবে মুক্তেশ্বর এই সময়েই কেন এমন কথা বললেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শ্রীভূমির সুবীর রায়চৌধুরীর বক্তব্য , কেম্প্রাই নিজের বুদ্ধিতে এসব বলছেন না, এটি নিশ্চিত। ফলে পেছনে কে আছেন, তাকে বার করতে হবে। বিজেপি নেতা অভ্রজিৎ চক্রবর্তী এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সুড়সুড়িরও আশঙ্কা করছেন ।
কৃশানু ভট্টাচার্যের কথায়, এই আন্দোলনে স্থানীয় ডিমাসাদের অংশগ্রহণ জরুরি। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ভাষাগোষ্ঠীর বিরোধ বাড়ছে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের দিলীপ সিনহাও স্পষ্ট করেই ডিমাসা সাহিত্য সভার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
শুরুতে রূপমের সম্পাদক নিখিল পাল সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। এর পরই বক্তৃতার জন্য ডেকে নেওয়া হয় ভাষাশহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতির সম্পাদক ডা. রাজীব করকে। তিনি স্টেশনের নাম বদলের দাবিতে নাগরিক সভা ডাকার প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে কেম্প্রাইর গ্রেফতারের দাবিতে মানবশৃঙ্খল তৈরি করতে বলেন। এ দিনের সভা প্রথম প্রস্তাবটি মেনে নিয়ে ভাষাশহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতিকেই নাগরিক সভা ডাকতে বলে। কোরাসের বিশ্বজিৎ দাস এ ব্যাপারে একটি আরটিআই করার পরামর্শ দেন।
জয় বরদিয়া, সায়ন বিশ্বাসরা কেম্প্রাইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার হন। তাকে মাফ চাইতেই হবে বলে আওয়াজ তোলেন তাঁরা।
অনিল বর্মন, সত্যজ্যোতি বর্মন প্রমুখের ৬১-র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করেও নীহাররঞ্জন পাল বলেন, কেম্প্রাইর গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব অতনু ভট্টাচার্য, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সাহিত্য সম্পাদক দীপক সেনগুপ্ত , দিশারীর সভাপতি গৌরী দত্ত বিশ্বাস, মৌটুসী বিশ্বাস, সুব্রত রায়, সৌমিত্র দত্ত রায়, শেখর দেবরায়, রজত ঘোষ, দীপঙ্কর চন্দ প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
পরে নিখিলবাবু কেম্প্রাইর পাশে না দাঁড়িয়ে ডিমাসা সাহিত্য পরিষদ সহাবস্থানে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।


